শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা

শরণংকর বড়ুয়া | রবিবার , ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ

আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত, দান, শীল, ভাবনা ও পরিশুদ্ধ জীবনচর্চা প্রতিপালন, আত্মশুদ্ধি, আত্মসংযম ও আত্মপ্রীতির মঙ্গলদীপ জ্বেলে প্রতিবছর আমাদের জীবনাঙ্গনে ফিরে আসে। তিন মাস বর্ষাবাসের সফল সমাপ্তি হলো প্রবারণা পূর্ণিমা।

তথাগত বুদ্ধের অনুসারী উপাসক–উপাসিকা ও দায়ক–দায়িকাগণ শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞার অনুশীলন করে ভুলভ্রান্তি স্বীকার করে কুশলকে বরণ ও অকুশলকে বর্জন করেন। তথাগত বুদ্ধ এই পূর্ণিমা তিথিতে ভিক্ষু সংঘকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বহুজনের হিতের জন্য, বহুজনের সুখের জন্য, দেব–মানবের কল্যাণের জন্য তাঁর প্রচারিত ধর্ম ছড়িয়ে দিতে।

বুদ্ধের এই অমিয় বাণীকে ধারণ করে প্রবারণা পূর্ণিমার পর থেকে এক মাসব্যাপী আশ্বিনী পূর্ণিমা থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় দানশ্রেষ্ঠ শুভ কঠিন চীবর দান। এই মহান দিনে সকলের মনে জাগে সামাজিক সৌহার্দ্য, বিশুদ্ধ আত্মচেতনা, সমপ্রীতি ও মৈত্রী।

সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানোর তাৎপর্য হচ্ছে, রাজকুমার সিদ্ধার্থ দুঃখমুক্তির উপায় খুঁজতে সন্তান ও স্ত্রীকে গভীর রাতে ঘুমে রেখে শৈশবের সাথী সারথি ছন্দককে নিয়ে গৃহত্যাগ করে মল্লরাজ্যের সীমান্তে অনোমা নদীর তীরে পৌঁছান। তখন সিদ্ধার্থ আকাশের দিকে এক পলক তাকিয়ে কোমরে থাকা তলোয়ার দিয়ে নিজের মাথার চুল কেটে আকাশমার্গে একগুচ্ছ চুল উড়িয়ে দেন। সেই উড়ন্ত কেশরাশি স্বর্গের দেবরাজ ইন্দ্র এসে নিয়ে স্বর্গে চূড়ামণি জাদী নির্মাণ করেন। তখন থেকে সেই স্মৃতিকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা করে তাঁর উদ্দেশ্যে বৌদ্ধরা ফানুস উড়িয়ে বুদ্ধের চুলধাতুকে পূজা করেন। জাতি–ধর্ম নির্বিশেষে সমগ্র বিশ্বে এই উৎসব পালিত হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকালিদাস রায় : কবি ও শিশুসাহিত্যিক
পরবর্তী নিবন্ধপ্রবারণা: শুদ্ধ বিনয়াচারে জীবন পরিচালনার আদর্শ গ্রহণ