হাটহাজারীতে মো. ইয়াসিন ফরহাদ নামে আট বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থীকে পেটানোর ঘটনায় মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ মুহাম্মদ ইয়াহিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিহান সানজিদার আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বুধবার বিকালে রাঙ্গুনিয়ার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ইয়াহিয়াকে। জেলা পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক (প্রসিকিউশন) হুমাউন কবির আজাদীকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার ৯ মার্চ বিকাল ৫ টার দিকে হাটহাজারীর মারকাজুল কুরআন ইসলামিক একাডেমিতে মো. ইয়াসিন ফরহাদ নামে ৮ বছরের ওই শিশুকে বেত দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ মুহাম্মদ ইয়াহিয়া। মূলত মায়ের পিছু পিছু যাওয়ায় শিক্ষক ইয়াহিয়া তার ছাত্রের উপর এ নির্যাতন চালান।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকালে ইয়াসিন ফরহাদের মা তাকে দেখতে মাদরাসায় যান। তিনি চলে যাবার সময় ছেলে কান্নাকাটি করে এবং মায়ের পিছু পিছু স্থানীয় কনক কমিউনিটি সেন্টার পর্যন্ত চলে যায়। অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষক ইয়াহিয়াও পিছু পিছু যান এবং ফরহাদকে টেনেহিঁচড়ে সেখান থেকে মাদরাসায় নিয়ে আসেন এবং বেধড়ক মারধর করেন। এসময় মাদরাসার অপর এক ছাত্র ফরহাদকে মারধরের ঘটনা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশ ওই শিক্ষক ইয়াহিয়াকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু শিশুর পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে ছেড়েও দেয়।
হাটহাজারী থানা পুলিশ জানায়, শিশুটির পিতা পরে নির্যাতনের অভিযোগে এনে ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, অন্যায়ভাবে শিশুর উপর নির্যাতনের ঘটনায় মারকাজুল কুরআন ইসলামিক একাডেমি কর্তৃপক্ষ শিক্ষক ইয়াহিয়াকে ঘটনার পর পর বহিষ্কার করে।












