লোহাগাড়ায় রাতের আঁধারে টিলা কেটে মাটি পাচার করা হচ্ছে। উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তিতারচর গলাছিড়া মুড়া নামক টিলার মাটি কাটছে একটি প্রভাবশালী মহল। দিনে নীরব থাকলেও রাতে চলে প্রকৃতি ধ্বংসের এই কর্মযজ্ঞ।
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন ধরে রাতের আঁধারে এক্সকেভেটর দিয়ে টিলার মাটি কাটা শুরু করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। মাটিখেকো চক্রটি ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি টিলা কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। এভাবে টিলা কাটার কারণে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে। টিলা কাটার কাজে জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে তিতারচর সীমানায় অবস্থিত গলাছিড়া মুড়া নামের টিলাটিতে নির্বিচারে মাটি কাটা হচ্ছে। টিলার বিভিন্ন অংশে এক্সেভেটর দিয়ে মাটি কাটার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। কোথাও মাটি কেটে ঢাল সমতল করা হয়েছে। টিলাজুড়ে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালার মধ্যেই মাটি কাটার চিহ্ন চোখে পড়ে। এভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় টিলাটির স্বাভাবিক গঠন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাহাড়ি মাটির স্বাভাবিক স্তর নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গাছপালা ও বন্যপ্রাণীর সম্ভাব্য আবাসস্থলও হুমকির মুখে পড়ছে। নির্বিচারে টিলা কাটা অব্যাহত থাকলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাটিক্ষয় ও বৃষ্টির সময় ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এলাকাবাসী ও প্রশাসনের নজর এড়াতে রাতের আঁধারে এক্সকেভেটর দিয়ে টিলার মাটি কেটে ৭–৮টি ডাম্পট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়। টিলা কাটার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা এলাকায় প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা প্রকাশ্যে কারও নাম বলতে চান না। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সেলিম জানান, গলাছিড়া মুড়ায় টিলা কাটার বিষয়টি অবগত আছেন। পাহাড় কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হবে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ বিন আখন্দ জানান, পাহাড়–টিলা কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। পাহাড়–টিলা ব্যক্তিমালিকানাধীন বা খতিয়ানভুক্ত জমিতে হলেও তা কাটা যাবে না। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












