লোহাগাড়ায় প্রায় ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জান্নাতুল ফেরদৌস (১৭) নামে এক কিশোরী ও আবু হেলাল (৪০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় ভাড়া বাসা থেকে কিশোরীর ও পরদিন দুপুর দেড়টার দিকে নিজ বসতঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, কিশোরী জান্নাতুল ফেরদৌসের মা মাহমুদা আক্তার বিউটি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রশিদের পাড়ায় একটি ভবনের ৪র্থ তলায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তার সাথে আগের সংসারের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসও থাকতো।
কিশোরীর মা মাহমুদা আক্তার বিউটি জানান, তার মেয়ের সাথে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে মান–অভিমান থেকে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
অপরদিকে, যুবক আবু হেলাল উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগান পাড়ার মো. ইব্রাহিমের পুত্র। তিনি চুনতি হাকিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ও ৩ সন্তানের জনক।
নিহত যুবকের ভাই মো. ইলিয়াছ জানান, কয়েকদিন আগে আবু হেলালের স্ত্রী বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেছেন। দুপুরে ভাইকে খাবার খেতে ডাকেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। পরে ঘরে ঢুকে তাকে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে। আবু হেলাল মানসিক রোগী ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রী কয়েকদিন বাপের বাড়িতে থাকায় হেলাল উদ্দিন নিয়মিত ওষুধ সেবন না করায় মানসিক রোগ বেড়ে গিয়েছিল। তাই এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে পরিবারের কারো কোনো অভিযোগ না থাকায় সুরতহাল শেষে যুবকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উভয় ঘটনার ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।












