লোডশেডিংয়ে বেশি ভোগান্তিতে গ্রামের মানুষ

প্রতিদিন গড়ে ১০-১১ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না

শুকলাল দাশ | বৃহস্পতিবার , ১৩ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ

লোডশেডিংয়ের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামের মানুষ। গ্যাস সংকট ও বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিদ্যুতের এই লোডশেডিংয়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে গ্রামাঞ্চলে। যার ফলে শহরের চেয়েও গ্রামে বিদ্যুৎহীনতার এই চরম কষ্ট সাধারণ মানুষকে বেশি পোহাতে হচ্ছে। খবর নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না মানুষ। গ্রামের মানুষের বিদ্যুতের এই ভোগান্তির কথা শোনার মতোও কেউ নেই।

উপজেলার গ্রাহকদের অভিযোগ, উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস গুলোতে ফোন করে কাউকে পাওয়া যায় না। অফিসে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না তারা। উপজেলা গুলোতে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। তবে বৃষ্টি হলে বিদ্যুতের চাহিদা কমে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। নগরীতে পিডিবির বিভিন্ন সাব স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে গ্যাসচালিত বিদুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪১৫ মেগাওয়াট। আর সকালে চাহিদা ছিল ১২৮৭ মেগাওয়াট।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন দক্ষিণ চট্টগ্রামের আট উপজেলা এবং উত্তরের আট উপজেলার মানুষ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ। উপজেলাগুলোতে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। পবিস১ চট্টগ্রাম দক্ষিণের আট উপজেলা নিয়ে গঠিত। উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছেপটিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া। পবিস১ চট্টগ্রাম জেলার ৭টি জোনাল অফিস, ১টি সাবজোনাল অফিস, ১টি এরিয়া অফিস এবং ২৩টি অভিযোগ কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সেবা প্রদান করে থাকে।

জানা গেছে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের আট উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৭ লাখের কাছাকাছি। অপরদিকে এই ৮ উপজেলায় পিডিবির গ্রাহক সংখ্যা লক্ষাধিক। গ্রামাঞ্চলের পল্লী বিদ্যুৎ এবং পিডিবির গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। ২০২২ সাল থেকে প্রতিবছর গরম বাড়লেই দেখা দিচ্ছে লোডশেডিং।

এদিকে পিডিবির হিসাব অনুযায়ী চট্টগ্রামে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা অফ পিক আওয়ারে ছিল ১২৮৭ দশমিক ৯ মেগাওয়াট এবং পিক আওয়ারে ১৪১৫ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াট। কিন্তু অফ পিক আওয়ারে এবং পিক আওয়ারে চাহিদার তুলনায় ১৭০ থেকে ২০০ মেগাওয়াটের কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে জাতীয় গ্রিড থেকে। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে পিক আওয়ার সাধারণত বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত, যখন চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। অন্যদিকে, অফপিক আওয়ার হলো রাত ১১টা থেকে পরদিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত। তখন বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কম থাকে।

ভুক্তভোগীরা জানান, নগরীর মোমিন রোড, জামালখান, রহমাতগঞ্জ, লাভলেইন, পাথরঘাটা, এনায়েত বাজার, আন্দরকিল্লা, আসকারদীঘির পাড়, হালিশহর, কালুরঘাট, মুরাদপুর, ও বায়েজিদ বোস্তামীসহ শিল্পাঞ্চলে কয়েকদিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে গড়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুতের অভাবে বায়েজিদ বোস্তামী শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যস্ত কমে গেছে। শিল্পকারখানা, ফ্ল্যাট বাড়িসহ বড় বড় অফিসআদালতে জেনারেটর চালিয়েও বিদ্যুৎ সংকট সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত আওয়ামী লীগ সরকার দেড় দশকে জ্বালানি নিশ্চিত না করেই একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র বসে থাকলেও দিতে হচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জ বা কেন্দ্র ভাড়া। বর্তমানে পিডিবির কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবছর সরকারের ভর্তুকিও বাড়ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধ৫৬ লাইটারেজ জাহাজের বে ক্রসিং পারমিশন স্থগিত