নাসুম, মিরাজ দুই স্পিনারের চমৎকার বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনো ব্যাটার। মাত্র ১০৮ রানেই অল আউট হয় ক্যারিবিয়রা। ব্যাট হাতে ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তামিম ইকবাল ও লিটন দাস ১৭৬ বল বাকি থাকতেই জিতে নেন ম্যাচ। ফলে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে গেল বাংলাদেশ। গতকাল গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৯ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। ফলে টাইগাররা ৩ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে ২-০ ব্যবধানে। ওয়ানডেতে এ নিয়ে পঞ্চমবার ৯ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ, চলতি বছর দ্বিতীয়বার। এটি তামিমের নেতৃত্বে ৬ষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়। পাশাপাশি টানা পঞ্চম ওয়ানডে সিরিজ জয়। এরমধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুবার এবং শ্রীলংকা, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পেসাররা কিছুটা ভূমিকা রাখলেও গতকাল বাংলাদেশের স্পিনারদের ঘূর্ণিতে কাবু হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরাজ, নাসুমের সাথে মোসাদ্দেকের ঘূর্ণির সামনে পড়ে দাঁড়াতেই পারেনি স্বাগতিকরা। বল হাতে স্পিনাররা যে মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিল তাতে দাঁড়িয়ে বাকি কাজটা একেবারে নিপূণ কারিগরের মত সেরেছে ব্যাটাররা।
টসে জিতে এই ম্যাচেও প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল। অধিনায়কের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণে বেশি সময় নেননি মোসাদ্দক হোসেন। তিনি বোল্ড করে ফেরান কাইল মায়ার্সকে। যদিও আরো আগেই ফিরতে পারতেন তিনি। মিরাজের বলে সোহান স্টাম্পিং মিস করলে সে যাত্রায় বেঁচে যান মায়ার্স। তিন ওভার পর এবার নাসুমের আঘাত। তার শিকার ক্রুক। ৫ রান করে ফিরেছেন তিনি। তবে স্বাগতিক শিবিরে সবচাইতে বড় ধাক্কাটা দেন সেই নাসুমই। ১৮ তম ওবারের চতুর্থ এবং ষস্ট বলে শাই হোপ এবং অধিনায়ক নিকোলাস পুরানকে ফেরান নাসুম। হোপ ১৮ রান করলেও রানের খাতা খুরতে পারেনি পুরান। রবম্যান পাওয়েলকেও ভয়ংকর হতে দেননি শরীফুল। অপয়া ১৩ তে ফিরেছেন এই হার্ড হিটার। পরের ওভারে ব্রেন্ডন কিং এর স্টাম্প উপড়ে ফেলেন মিরাজ। ৭২ রানে ৬ উইকেট নেই ক্যারিবীয়দের। এরপর বলতে গেলে কেমো পল প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু স্বাগতিকদের লেজ ছেটে দিতে মোটেও সময় নেননি মিরাজ। মুলত তার ঘুর্নিতে দাড়াতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষের দিকের ব্যাটাররা। ফলে ১০৮ রানে অল আউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একপ্রান্ত আগলে রাখা কিমো পল অপরাজিত ছিলেন ২৪ বল। ২৫ রান করে। মিরাজ নিয়েছেন ২৯ রানে ৪ উইকেট। প্রথম ম্যাচে তিন উইকেট নিয়েছিলেন এই স্পিনার। শুরুতে স্বাগতিকদের কোমর ভেঙে দেওয়া নাসুম নিয়েছেন ১৯ রানে তিন উইকেট।
১০৯ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে শুরুটা দারুণ করেছিল তামিম ইকবাল। ৪৮ রান করে বিচ্ছিন্ন হন দুজন। ৩৬ বলে ২০ রান করে ফিরেন শান্ত। এরপর লিটন দাসকে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি তামিম ইকবালকে। ব্যাট হাতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দারুন এক জয় তুলে নিলেন তামিম। মোটির বলে চার মেরে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নিজের হাফ সেঞ্চুরিও তুলে নেন। ৬২ বলে ৬ টি চারের সাহায্যে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন তামিম। আর লিটন দাশ অপরাজিত ছিলেন ২৭ বলে ৬ চারের সাহায্যে ৩২ রান করে। এই দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিটা ছিল ৬২ রানের। ১৭৬ বল এবং ৯ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ এবং সিরিজ জয়ের আনন্দে মাতে বাংলাদেশ। ম্যাচ সেরার পুরষ্কার উঠে ৩ উইকেট নেওয়া নাসুম আহমেদের হাতে।








