‘হটস্পট’ ঘোষিত কক্সবাজারের রামু ও মহেশখালীতে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে হাম–রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সরকারের পাইলট প্রকল্পের আওতায় হামের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে রামু ও মহেশখালী উপজেলায় মোট ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে রামু ও মহেশখালী উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাম–রুবেলার টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে যাদের এ মুহূর্তে জ্বর আছে, তাদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার সব সময় শিশু সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। কক্সবাজারে হামের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার পরপরই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে আক্রান্ত এলাকায় সক্রিয় অনুসন্ধান, সংক্রমিত শিশুদের দুই ডোজ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল, টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়া এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন। এছাড়া কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ইউনিসেফের সহযোগিতায় ৮ শয্যার হাম ওয়ার্ডকে ২০ শয্যায় উন্নীত করায় দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর, পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শিশুদের টিকা দেওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, প্রথম ধাপে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে মহেশখালীর ৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এবং রামুর ৪টি ইউনিয়নে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে। প্রথম দিনে মহেশখালীতে ৪ হাজার ২৩০ এবং রামুতে ২ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। দিন শেষে দুই উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে।














