রাখাইনে অপহৃত দুই শিক্ষকের সন্ধান মিলেনি

সীমান্তে রেড এলার্ট

উখিয়া প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ২৩ জুন, ২০২২ at ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ

মিয়ানমারের উত্তর রাখাইন থেকে অপহৃত দুই প্রাইমারি শিক্ষকের ৭ দিনেও কোনো সন্ধান মিলেনি। এতে উত্তর রাখাইনজুড়ে অধিবাসীদের মাঝে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা বেড়ে চলেছে। গত বৃহস্পতিবার স্কুল থেকে মংডু জেলা শিক্ষা অফিসে যাওয়ার পথে দুই শিক্ষক অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীদের হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন। এ নিয়ে যে কোনো ধরনের উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সীমান্তে উচ্চ মাত্রার সতর্কতা জারী করেছে বিজিবি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও মিয়ানমারের একাধিক গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টার দিকে এ দুই শিক্ষক অপহরণের শিকার হন। ঐ শিক্ষকদ্বয় মোটরসাইকেল যোগে মংডু জেলা শিক্ষা অফিসে যাওয়ার পথে মংডু-টাংপিও (তুমব্রু) সড়কের জি পিন চং গ্রামের কাছে নিখোঁজ হন। অপহরণস্থল বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারের টংপিউ লেটওয়ে।

অপহৃত শিক্ষকদ্বয় হলেন, মংডু টাউনশিপের তুমব্রু থাবাউং হ্লা গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউ বো উইন এবং সহকারী শিক্ষিকা ডও ওহমার কিয়াও। নিখোঁজদের সন্ধানে শনিবার তল্লাশী চালানোর সময় দুষ্কৃতকারীদের গুলির কারণে অনুসন্ধান বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে শিক্ষক অপহরণকে কেন্দ্র করে আবারও রাখাইনে মুসলিম, রাখাইনসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান বা ইউএলএ/এএ, আরাকান ন্যাশনাল পার্টি বা এএনপি, আরাকান ফ্রন্ট পার্টি বা এএফপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পৃথক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান। তবে শিক্ষক অপহরণের ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের ঐ এলাকায় মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও বর্ডার গার্ড পুলিশের বহিরাগমন ও চলাচল নিরাপত্তার কারণে সীমিত করার খবর পাওয়া গেছে।

বর্তমান সময়ের রাখাইন প্রদেশে উল্লেখযোগ্য সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) প্রধান তুন মায়াত নাইং তার টুইটারে শিক্ষক অপহরণের জন্য আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) কে দায়ী করেন। গত মঙ্গলবার এএ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রাখাইনের সকল সম্প্রদায়ের মধ্যকার সম্প্রীতি বজায় রাখতে সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যে স্থান থেকে শিক্ষক অপহৃত হয়েছে সেখানে ইতিপূর্বেও আরসার সাথে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল।

একইদিন আরসা রাখাইনে শিক্ষক অপহরণের ঘটনায় গভীর নিন্দা জানিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছে। এ ঘটনায় তারা জড়িত নয় দাবি করে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বানচাল করতে এএ কে দায়ী করেন। এ ঘটনায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো পক্ষ বা কেউ দায় দায়িত্ব স্বীকার করেনি।

গতকাল বুধবার রাখাইন প্রদেশে রাজধানী সিট্রুসহ বাংলাদেশ দূতাবাসের কনসাল জেনারেলের সাথে এ বিষয়ে স্বাক্ষাত করেছেন আরাকান ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় অপহৃত দুই শিক্ষককে উদ্ধারে সহযোগিতা কামনা করেন। এএনপির প্রতিনিধি দলের সদস্য খাইং সান অং স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, কনসাল অফিস থেকে সাধ্যমত চেষ্টা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কঙবাজার ব্যাটলিয়ন-৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. মেহেদী হোসাইন কবির বলেন, রাখাইনে দুই জন শিক্ষক অপহরণের শিকার হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবে মিয়ানমার কতৃপক্ষ এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানায়নি। তিনি বলেন, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সর্তকাবস্থা জারী করেছি। সীমান্তে প্রয়োজনের অতিরিক্ত লজিস্টিক সাপোর্ট মোতায়েন করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে আর একজন রোহিঙ্গাকেও বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেয়া হবে না।