যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সই, সম্পূরক শুল্ক নামল ১৯ শতাংশে

নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাকপণ্যে পারস্পরিক শূন্য শুল্ক সুবিধার আশ্বাস

| মঙ্গলবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ

নয় মাসের দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক নিয়ে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ; যাতে আগের চেয়ে শুল্কহার কমেছে ১ শতাংশ।

চুক্তিতে বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। বাড়তি শুল্কের বাইরে আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে দেশটিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো। বিডিনিউজের খবরে বলা হয়, এখন সব মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক দিতে হবে ৩৪ শতাংশ। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে বাংলাদেশে উৎপাদিত নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাকপণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শূন্য শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে এ বিষযে চুক্তি সই হওয়ার খবর দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। অনলাইনে এ চুক্তি সই হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আশা, এ চুক্তিতে শুল্কহার খুব বেশি না কমলেও এর বাইরে দেশটির বাজারে আরও কিছু বাড়তি সুবিধা পাবে বাংলাদেশি পণ্য। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চুক্তিটি সোমবার উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদন পেয়েছে। উভয় পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন জারি হলে চুক্তিটি কার্যকর হবে। বাসস জানায় : এ চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে প্রায় নয় মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলে। গত বছরের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই আলোচনার মধ্য দিয়েই চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পায়।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন বলেন, এই চুক্তি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন ঐতিহাসিক স্তরে নিয়ে যাবে। এর ফলে দুই দেশই একে অপরের বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তি প্রবেশাধিকার পাবে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, ২০ শতাংশ থেকে শুল্কহার ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য আরও সুবিধা বয়ে আনবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাকপণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে উল্লেখযোগ্য গতি সঞ্চার করবে। তিনি বাংলাদেশের পক্ষে এই চুক্তির প্রধান আলোচক ছিলেন।

বিডিনিউজ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। সেসময় বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসে। পরে দর কষাকষি করে এ হার ২০ শতাংশ নামে, যা ১ আগস্ট কার্যকর হয়। আর আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক; সব মিলিয়ে শুল্ক দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ। বাড়তি এ শুল্ক আরোপের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার টানা নয় মাসের বেশি সময় ধরে তা কমাতে আলোচনা চালিয়ে আসছিল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম আটক
পরবর্তী নিবন্ধকর্ণফুলীর তীরে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপনসহ কয়েকটি নীতিমালা অনুমোদন