যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ১৪ দফা শান্তি পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের জবাব তেহরানের পর্যালোচনায় ইরান এখনো যথেষ্ট মূল্য দেয়নি : ট্রাম্প । খারাপ চুক্তি অথবা ভয়াবহ সামরিক অভিযান- একটিকে বেছে নিতে হবে ট্রাম্পকে : আইআরজিসি

আজাদী ডেস্ক | সোমবার , ৪ মে, ২০২৬ at ১০:২১ পূর্বাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি বিস্তৃত শান্তি পরিকল্পনা দিয়েছে ইরান। পাল্টা হিসেবে ওয়াশিংটনও এই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে, যা বর্তমানে তেহরান পর্যালোচনা করছে। তবে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা, অন্যদিকে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা।

ইরানের এই প্রস্তাবটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বে দেওয়া ৯ দফা পরিকল্পনার জবাব হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। দেশটির দাবি, তারা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি নয়, বরং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুদ্ধের ‘চূড়ান্ত সমাপ্তি’ চায়। প্রস্তাবে ৩০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে রয়েছেমার্কিন নৌঅবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া, অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান। পাশাপাশি ইরানের আশপাশের সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের হামলা না করার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং এর জন্য একটি নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনসহ সব ফ্রন্টে তাৎক্ষণিকভাবে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, ইরান এখনো তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য যথেষ্ট মূল্য দেয়নি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত নয়; এটি কেবল যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ।

এখন যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সংঘাতের পথ বেছে নেবে নাকি কূটনীতিকভাবে সমাধান করবে। ‘ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসির গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘ভয়াবহ সামরিক অভিযান’ অথবা একটি ‘খারাপ চুক্তির’ মধ্যে যে কোন একটি বেছে নিতে হবে। বিবিসি ফার্সির তথ্যমতে, আইআরজিসিরি পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে সামপ্রতিক ঘটনাবলীর কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণের হাতে খুব কম সময় রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে ‘একটি ভয়াবহ সামরিক অভিযান অথবা একটি খারাপ চুক্তি’র মধ্যে যে কোনো একটি বেছে নিতে হবে।

ইরানের আধা সামরিক তাসনিম নিউজ এজেন্সির মতে, যুক্তরাষ্ট্র তার প্রস্তাবে দুই মাসের যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু ইরান স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে যে ৩০ দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে ‘যুদ্ধ শেষ করার’ ওপরই মনোযোগ দিতে হবে।

ইরান এখনো ‘যথেষ্ট মূল্য’ দেয়নি : এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, ইরান এখনো যথেষ্ট বড় মূল্য দেয়নি। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করতে পারছি না এটি (শান্তি প্রস্তাব) গ্রহণযোগ্য হবে, কারণ গত ৪৭ বছরে মানবতা ও বিশ্বের বিরুদ্ধে যা করেছে, তার জন্য তারা এখনো যথেষ্ট মূল্য দেয়নি।

ওয়াশিংটন বারবার বলেছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার মতো কোনো চুক্তি ছাড়া যুদ্ধ শেষ করা হবে না। ফেব্রুয়ারিতে পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে হামলা শুরুর সময় ট্রাম্প এটিকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে ইরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসরকার সংস্কার চায় না, নতুন সংবিধানের দাবিতেই ফিরব
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামের ১০৫ ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে সিডিএর উদ্যোগ