যদি নির্বাচন না হয়, তাহলে জাতি প্রচণ্ড রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হবে : ফখরুল

উগ্রবাদের রাজনীতি আনার ষড়যন্ত্র চলছে

| শনিবার , ৩০ আগস্ট, ২০২৫ at ৬:২০ পূর্বাহ্ণ

দেশে উদারপন্থার রাজনীতি সরিয়ে উগ্রবাদ নিয়ে আসার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আপনারা মনে রাখবেন, দেশে একটা ষড়যন্ত্র চলছে। সেই ষড়যন্ত্রটা হচ্ছে যেএই দেশে মধ্যপন্থা রাজনীতি, উদারপন্থি রাজনীতি, উদারপন্থি গণতন্ত্র তাকে সরিয়ে দিয়ে একটা উগ্রবাদের রাজনীতিকে নিয়ে আসা বাংলাদেশে। এটা বাংলাদেশের জন্য চরম ক্ষতিকর হবে। আমাদেরকে সেজন্য উদারপন্থি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘রক্তাক্ত জুলাই’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সৈয়দা ফাতেমা সালামের এ বই প্রকাশ করেছে ইতি প্রকাশন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা জানি যে রাজনীতিতে অবশ্যই মতভেদ থাকবে, রাজনীতিতে বিভিন্ন রকম চিন্তা থাকবে, মত থাকবে। কিন্তু এখন যে পরিবেশটা আমাদের আছে, সেই পরিবেশটাতে আমাদের জনগণ কিন্তু অত্যন্ত বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন, মানুষকে জিজ্ঞেস করলে মানুষ বলে, নির্বাচন হবে তো? এই যে একটা এক ধরনের শঙ্কাআশঙ্কা এবং এক ধরনের হতাশা এসে যায়। আমি যেটা সবসময় বলি যে, নির্বাচন হবেই এবং যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সেই সময়তেই হবে। এই কারণে যে এর কোন বিকল্প নেই। আজকে যদি নির্বাচন বন্ধ করা হয় বা নির্বাচন না হয়, তাহলে এই জাতি প্রচণ্ড রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এবং ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক বাড়বে।

তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করছেন যে বিভিন্ন দিক থেকে, বিভিন্ন সময় অনেকেই চেষ্টা করছে এই ফ্যাসিবাদকে নিয়ে আবার কথা বলার জন্য এবং বিদেশেও এটা নিয়ে কাজ হচ্ছে। তাই নির্বাচনটা খুব দ্রুত দরকারসে কথাগুলো আমরা বারবার বলেছি এবং আমরা মনে করি যে, একটা অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের যে কাঙিক্ষত লক্ষ্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সেই রাষ্ট্রব্যবস্থায় আমরা যাওয়ার সুযোগ পাব।

বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, গতকাল একজন বিখ্যাত সম্পাদক মহোদয়ের সঙ্গে আমার রাতে একটা আলোচনা হয়েছিল। সেখানে তিনি যে কথা বললেন, সেটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। তিনি বলেছেন, আপনারা কী করছেন, না করছেনজানি না; বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু বিএনপির উপরে তাকিয়ে আছে। বিএনপি পরিবর্তন আনবে। যে ফ্যাসিবাদ ধ্বংস করে দিয়ে গেছে দেশের অর্থনীতি, সমাজ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থাএগুলোর পরিবর্তন বিএনপি নিয়ে আসবে; এটা মানুষের আশা।

তিনি বলেন, ওই জায়গাটাকে আপনারা নষ্ট করবেন না, ওই জায়গাটা ধরে নেবেন এবং সেটা যেন ফলপ্রসূ হয়আমরা যেন সেখানে পৌঁছাতে পারি, তার জন্য আমাদেরকে কাজ করতে হবে। আমি আবারো আপনাদেরকে অনুরোধ করব যে, আমরা সবাই একটা বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হই যেআমরা আমাদের দেশের মানুষের যে আশা, যে প্রত্যাশা, যে স্বপ্নসেটাকে আমরা বাস্তবায়িত করার জন্যআমরা যারা বিএনপির কর্মী আছি, তারা সবাই একযোগে কাজ করব। এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যারা বিএনপির সঙ্গে জড়িত, যারা বিএনপির কর্মীসুহৃদনেতা তাদের কাছে আমার একটাই অনুরোধ যে, এই সুযোগটা অন্যকে কাউকে দেবেন নাযেখানে তারা বলতে পারে যে, ‘বিএনপি কোনো খারাপ কাজ করছে,’ এটা খুব জরুরি। আপনারা মনে করবেন না যে, আপনারা ক্ষমতায় চলে এসেছেন। এটা অনেকেই মনে করছেন; মনে করছেন বলে এই দুর্বৃত্তায়নগুলোকে তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। এখনো আপনারা ক্ষমতার কাছেও আসেননি। অনেক চক্রান্ত আছে, ষড়যন্ত্র আছে সেগুলোকে ওভারকাম করে আপনাদের ঐক্য দিয়ে আপনাদের ভালো কাজ দিয়ে, আপনাদেরকে জনগণের কাছে যেতে হবে।

তিনি বলেন, আজকে একটা পরিবর্তন মানুষ চায় যেপরিবর্তনের জন্য মানুষ কিন্তু উন্মুখ হয়ে আছে। আর এই পরিবর্তন তারা বিএনপির কাছে চায়। বিএনপিকে এই পরিবর্তনটা দিতে হলে সেইভাবে কিন্তু তাদের নেতাকর্মীদের জনগণের সামনে নিয়ে আসতে হবে। আসুন, আমরা সেই লক্ষ্যে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। আমি বারবার বারবার বলেছিআপনারা সবাই জানেন যে, এই গণতন্ত্রের উত্তরণের জন্য আমরা ১৫ বছর ধরে লড়াই করেছি। এই গণতন্ত্রের উত্তরণের জন্যে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনি ছয় বছর কারাগারে ছিলেন এবং কী কষ্ট তিনি পেয়েছেন সেটা সবাই জানি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব তিনি ১৫/১৬ বছর ধরে নির্বাসনে বিদেশে অবস্থান করেছে, আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। গুমওই পরিবারগুলোর কথা আপনারা সবাই অনেকেই জানেন। তারা মাঝে মাঝে সামনে আসে, আপনাদের সামনে কথা বলে। তাদের বাচ্চারাযখন তাদের চোখের পানি পড়ে, তখন আমরাও চোখের পানি রাখতে পারিনি। এই যে ত্যাগ স্বীকার, এই ত্যাগকে অবশ্যই আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে।

কবি আবদুল হাই শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, লেখক সৈয়দা ফাতেমা সালাম ও প্রকাশক জহির দীপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকর ফাঁকি ঠেকাতে জোরালো গোয়েন্দা তৎপরতা চান এনবিআর চেয়ারম্যান
পরবর্তী নিবন্ধরোহিঙ্গা সংকট বৈশ্বিক রূপ নিতে পারে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা