যত দ্রুত সম্ভব স্কুল বাস চালু করা দরকার

| বৃহস্পতিবার , ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২ at ৫:২২ পূর্বাহ্ণ

যানজট কমানোর লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন তাদের আওতাধীন এলাকার স্কুলগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক স্কুলবাস চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চারটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পাইলট প্রকল্প হিসেবে স্কুলবাস চালু করা হবে বলে স্কুলবাস সার্ভিস প্রবর্তন সংক্রান্ত প্রাথমিক কর্মকৌশল নির্ধারণ বিষয়ক সভায় জানিয়েছেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সকল স্কুলেই স্কুলবাস সার্ভিস চালু করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, স্কুলবাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করা হলে স্কুলের ১০০ গজের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বহন করা ব্যক্তিগত গাড়ি প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। স্কুল বাস সার্ভিস চালু হলে পরিবেশ দূষণ ও যানজট কমবে বলে মনে করছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, পরিবেশ রক্ষায় ও যানজট কমাতে স্কুল বাস চালু করতে হবে। এর ফলে প্রাইভেট গাড়ির ব্যবহার কমে যাবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক বন্ধনও সুদৃঢ় হবে। ডিএনসিসি মেয়র বলেন, আমি জানি অভিভাবকরা বাচ্চাদের নিরাপত্তার বিষয়ে চিন্তা করেন। চিন্তা করাটাও স্বাভাবিক। আমরা বাচ্চাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। স্কুল বাসগুলোতে সিসি ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। আমরা জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে পরিবেশ বান্ধব বৈদ্যুতিক স্কুল বাস চালু করার জন্যও কাজ শুরু করেছি।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগটি গণমাধ্যমে আসার পর চট্টগ্রামে স্কুলবাস চালু করার দাবিটি ক্রমশ জোরালো হয়। ১১ সেপ্টেম্বর দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত ‘চট্টগ্রামে স্কুলের নিজস্ব বাস সার্ভিস কবে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী আন্তরিক হলে চট্টগ্রামেও স্কুল বাস চালু সম্ভব। প্রতিবেদনে নগরপরিকল্পনাবিদদের মতামত তুলে ধরা হয়েছে। এতে তাঁরা বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ বা সিটি কর্পোরেশন যেই করুক স্কুলবাস চালু করা অনেক ভালো উদ্যোগ। এটা যানজট নিরসনে নিঃসন্দেহে বিশাল ভূমিকা রাখবে। চলাচলের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আসবে। যদি সিটি কর্পোরেশন উদ্যোগ নেয় সবচেয়ে ভালো হয়। অনেকগুলো স্কুলের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা আছে। ব্যয় সাপেক্ষ হওয়ায় অনেকে পারছে না। সিটি কর্পোরেশন যদি সহযোগিতা করে আমরা স্বাগত জানাব। সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব স্কুল আছে। সেখানেও চালু করতে পারে। শুরু করে পরে যেন থমকে না যায়। সেজন্য সিটি কর্পোরেশন টেকসই ব্যবস্থাপনা করবে বলে আশা করব।
স্কুলবাস চালু হলে একাধিক সুবিধার কথাও বলেন নগরপরিকল্পনাবিদগণ। তাঁরা বলছেন, স্কুল বাস না থাকায় শহরের অনেকগুলো স্কুলে সন্তানদের প্রাইভেট গাড়িতে করে আনা-নেয়া করেন অভিভাবকগণ। একজন শিক্ষার্থীর জন্য একটি প্রাইভেট গাড়ি অপেক্ষা করতে দেখা যায় স্কুলের সামনে। এতে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। স্কুল ছুটির সময় এ যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করে। এসময় সবগুলো গাড়ির মাত্রাতিরিক্ত হর্ন বাজানোর কারণে হয় শব্দদূষণ। স্কুলবাস থাকলে কমবে প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা। কমবে যানজট, শব্দদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ। যদি কাউকে জিজ্ঞেস করা হয় যে, এই শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যা কোন্‌টি। তাহলে অনেকের উত্তর আসবে ‘যানজট’। এই যানজট এমন আকার ধারণ করেছে, যা দুঃসহ। প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার নগরবাসী।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘একটি বাসযোগ্য ভালো শহরের মান নির্ণায়ক কিন্তু গণপরিবহনও। কাজেই শুধু স্কুল বাস নয়; যে কোনো মূল্যে সব শ্রেণির জন্য সাশ্রয়ী আরামদায়ক গণপরিবহনও চালু করা উচিত। উন্নত গণপরিবহন সেবা চালু করা হলে কষ্টের টাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি কেনা এবং মেইনটেইন করার হার এমনিতেই কমে যাবে। কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজনও পড়বে না। একই সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মতো ব্যক্তিগত গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রেও একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা উচিত। তবে সেটি কার্যকর করতে হবে উন্নত, আরামদায়ক, সাশ্রয়ী গণপরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই। গণপরিবহন চালু না করে ঢাকা-চট্টগ্রামের রাস্তা যদি পুরোপুরি বন্ধও হয়ে যায়, তবু কোনোভাবেই ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। স্কুল বাস দিয়েই চালু হোক জুতসই গণপরিবহন ব্যবস্থা।’ তাই যত দ্রুত সম্ভব স্কুল বাস চালু করা দরকার। তাহলে যানজট কমবে এবং শব্দ ও বায়ুদূষণ থেকে রেহাই পাবে নগরবাসী।