নগরের জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের মৌলিক অবয়ব অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে জাদুঘরের (ভবন) মেরামত কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেন, এই বিল্ডিংটাকে (জাদুঘরের মূল ভবন) যেনতেন প্রকারে মেরামত করতে চাচ্ছি না। পুরনো প্রত্নতাত্ত্বিক একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবেই এটাকে আমরা দেখছি। সে কারণে এর মৌলিক যে সমস্ত কাঠামো ছিল বা গঠন প্রণালী ছিল, গঠন প্রক্রিয়া ছিল, সেই মৌলিকত্বকে এখানে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছি।
গতকাল রোববার সকালে নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকায় অবস্থিত জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই জাদুঘরটা পরিচালিত হচ্ছে। সেই দিক থেকে ঐতিহাসিকভাবে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পুরো বাংলাদেশের মানুষের কাছে এবং সারা পৃথিবীর কাছে। সেই বিবেচনায় এই জাদুঘরটির অনেক গুরুত্ব আমরা দিচ্ছি। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এটার দেখভাল করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন আগে এখানে একটা ভূমিকম্প হয়। সেই ভূমিকম্পের কারণে এই ভবনের বেশ কিছু ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি হওয়ার কারণে এখানে বিশেষজ্ঞ যারা আছেন, তাদের পরামর্শেই আপাতত এটার প্রদর্শনী বন্ধ আছে। আমরা এটাকে এখন উপযোগী করে তোলার জন্য, এটাকে রেস্টোরেশন বা এটাকে পুনর্গঠন করার জন্য, যে সমস্ত জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো ঠিক করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এজন্য বুয়েট থেকে বিশেষজ্ঞরা এসেছিলেন। তারা মতামত ব্যক্ত করেছেন। এখানে পিডব্লিউডির একটা অবজারভেশন দিয়েছেন। আরো অনেক বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদের অনেকের মতামত নিতে হচ্ছে এই কারণে যে, এটা খুবই পুরনো একটা ভবন এবং ঐতিহ্যগতভাবে এই ভবনটির গুরুত্ব রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের পুরনো ঐতিহ্যগুলো থেকে অনেক শিক্ষণীয় আছে। সে কারণে ঠিক যেভাবে এটা তৈরি করা হয়েছিল ঠিক সেভাবেই এটাকে সংরক্ষণ করার জন্য চেষ্টা করছি। মেরামত প্রক্রিয়ায় সেই বিষয়টা মাথায় রেখেই কাজ করছি। সেদিক থেকে একটু সময় লাগছে বটে, কিন্তু আগেও অনেকে এসেছেন, তারাও দেখেছেন। এখন এখানে আমাদের পিডব্লিউডির প্রকৌশলীবৃন্দ আছেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের সিনিয়ররা আছেন, এখানে কর্মকর্তারা আছেন। আমাদের গবেষণার কাজটা বা পরিদর্শনের কাজটা মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা খুব তাড়াতাড়ি এটা মেরামতের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করি আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, বিগত সরকারের আমলে এটার দিকে একেবারেই নজর দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ ২০ বছর বলা যেতে পারে, এটাকে একেবারেই অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি একজন অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। তিনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনি আমাদের দেশের রাজনৈতিক একজন বরেণ্য ব্যক্তি হিসেবে সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রিয় মানুষ।
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, অন্য যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তাদের একটা রোষানলের বিষয় তো এখানে দাঁড়িয়েই ছিল। আমাদের দুঃখজনক হচ্ছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার কথা বললেও ঠিক গণতান্ত্রিক যে রীতি সেগুলো আমরা অনুসরণ করি না। ফলে আমাদের এই মহান ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। তিনিও এই রোষানলে পড়েছেন। ফলে এই প্রতিষ্ঠানটা ও রকম দেখভাল গত ২০ বছরে হয়নি।
তিনি বলেন, এটাকে আবার পুরোদমে ঠিক করতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সে কাজটা করা বেশ সমস্যার ব্যাপার। ২০ বছরের সমস্ত জরাজীর্ণ জিনিসগুলোকে কাটিয়ে এটাকে ব্যবহার উপযোগী করা, এটা একটা বড় ধরনের সমস্যা। তো এটা মোকাবেলা করেই আমাদের কাজ করতে হচ্ছে এবং সেটা সম্পন্ন করে এটা চালু করে দেব।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে চট্টগ্রামের পুরাতন সার্কিট হাউস ভবনে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই সার্কিট হাউজকে একই বছরের ৩ জুন জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরে সরকারি প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এর উদ্বোধন করা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কারহীন ছিল এটি। ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বরের ভূমিকম্পে এটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবনের কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দেয় এবং পলেস্তারা খসে পড়ে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় এরপর থেকে জাদুঘরটি বন্ধ রাখা হয়।












