মে দিবসেই কিউবার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

| রবিবার , ৩ মে, ২০২৬ at ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ

কিউবার ওপর নতুন দফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ ও নিপীড়নমূলক আখ্যা দিয়ে এর কড়া নিন্দা জানিয়েছেন ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ। এর আগে শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, আর্থিক সেবা ও নিরাপত্তা খাতের কর্মকর্তা এবং তার ভাষায় মানবাধিকার লঙ্ঘন বা দুর্নীতিতে জড়িতদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। খবর বিডিনিউজের।

সেদিনই হাভানার মার্কিন দূতাবাসের বাইরে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস (বিশ্বের অনেক দেশে এটি মে দিবস নামেও পরিচিত) পালনে আসা বিক্ষোভকারীরা কিউবায় তেল সরবরাহে মার্কিন অবরোধের তীব্র প্রতিবাদ জানান। মার্কিন এ অবরোধের কারণে কিউবাজুড়ে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট ও লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে, জানিয়েছে বিবিসি। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ট্রাম্প দ্বীপদেশটিকে নিশানা বানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ক্রমশ কঠোর করেই যাচ্ছেন। তিনি যে দেশটির কমিউনিস্ট নেতৃত্বে বদল চান, তাও রাখঢাক ছাড়াই জানিয়ে দিয়েছেন। শুক্রবারও ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ক্যারিবীয় ওই দ্বীপদেশটিকে যুক্তরাষ্ট্র চাওয়া মাত্র প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই দখল করে নিতে পারবে।

ইরান থেকে ফেরার পথে, আমরা আমাদের একটা বড় জাহাজ নিয়ে আসব হয়তো ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী সেটিকে নিয়ে এসে উপকূল থেকে ১০০ গজের মতো দূরে দাঁড় করাব, আর তখন তারা বলবে, অনেক ধন্যবাদ। আমরা হার মানছি, বলেন ট্রাম্প। নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় এক্সে দেওয়া পোস্টে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, এ ধরনের একতরফা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসবের লক্ষ্যই হচ্ছে কিউবার সবার ওপর শাস্তি চাপিয়ে দেওয়া, বলেছেন তিনি।

তিনি কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভের ভিডিও শেয়ার করে, দেশটির জনগণ মাতৃভূমির সুরক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জানিয়ে বলেন, আমাদের লোকজন ভয়ে নুয়ে পড়ে না। কিউবার অর্থনীতি লক্ষ্য করে দেওয়া ট্রাম্পের নতুন এ নিষেধাজ্ঞা দেশটির শাসকগোষ্ঠীকে আরও চাপে ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ মার্চেই কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াসকানেল দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে আলোচনা চলছে বলে নিশ্চিত করেছিলেন। অবরোধ এবং তা কঠোরভাবে কার্যকর করায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, এর পেছনে কারণ হল দুনিয়ার সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তির অহঙ্কারী ও দাম্ভিক আচরণ, নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসার পর এক্সে দেওয়া পোস্টে এ কথা বলেন দিয়াসকানেল। কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের তেল নিষেধাজ্ঞার কারণে দ্বীপদেশটি ব্যাপক জ্বালানি ঘাটতি ও ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে।

এর প্রভাব পড়ছে হাসপাতালের ওয়ার্ড, গণপরিবহন ও শিক্ষাখাতেও। যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ আরোপ করার পর এখন পর্যন্ত কেবল একটি রুশ তেলবাহী ট্যাংকারই কিউবায় পৌঁছেছে। কেবল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেই ট্রাম্প ক্ষান্ত হননি, যেসব দেশ কিউবাকে তেল সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে শুল্ক আরও বাড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপশ্চিম এশিয়ার মিত্রদের কাছে ৮৬০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র
পরবর্তী নিবন্ধইসরায়েলের একের পর এক খ্রিস্টান বিরোধী কর্মকাণ্ডের নিন্দা ফ্রান্সের