মেরিন ড্রাইভ বাস্তবায়ন হলে সুফল পাবে পুরো দেশ

| বৃহস্পতিবার , ২৪ নভেম্বর, ২০২২ at ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ

সৈকতঘেঁষা মেরিন ড্রাইভে দাঁড়িয়ে নির্মল বাতাসে উজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ এসে যাচ্ছে শীঘ্রই। সমুদ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন করার এক অপার সুযোগ সৃষ্টি করেছে মেরিন ড্রাইভ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে উদ্গ্রীব হয়ে আছেন। তাই গত রোববার গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ইজেডগুলোতে শিল্প প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, মীরসরাইয়ের অর্থনৈতিক জোন এলাকা থেকেই কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ বাস্তবায়ন হবে, যা আর বেশি দূরে নয়। যা বাস্তবায়ন হলে সমুদ্রের নীল জলরাশির সাথে পাহাড়ের জনভূমির সম্মিলনে অভাবনীয় দৃষ্টিনন্দন উন্নয়নের পথে দেশ আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে, যা ইউরোপীয় অনেক উন্নয়নশীল দেশকেও হার মানাবে। পাশাপাশি চার লেনের রাস্তা ৬ লেন করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক জোন চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বঙ্গবন্ধু শিল্পজোনের ৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ দেশের ৫০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলেন, সমুদ্র চোখ জুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত বাংলাদেশের কক্সবাজার। অথচ সেই সৈকত কখনো স্বল্পসময়ে পুরো ঘুরে দেখা আমাদের সৌভাগ্য হয় না। আর স্বল্পসময়ে পুরো সমুদ্রসৈকত ভ্রমণও আমাদের পক্ষে সম্ভবও নয়। কক্সবাজার সমুদ্র দর্শনে যাবেন, কিন্তু পুরো সৈকতের দৃশ্য কেমন তা দেখতে মেরিন ড্রাইভে যাবেন না, তা তো হতে পারে না। মেরিন ড্রাইভে ঘুরে সমুদ্রের প্রকৃত গর্জন, নীল ঢেউয়ের সৌন্দর্যের মাঝে সূর্যের আলো খেলা ও অবারিত সবুজের পাঠশালায় কার না মন চায় কিছুটা অবকাশ যাপন করার।

এখানে উল্লেখ্য, যৌথ অর্থায়নে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রকল্প কর্ণফুলী নদীর তলদেশে মাল্টি লেন টানেল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরে এবার আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিনড্রাইভ। চট্টগ্রামের মিরসরাইর জোরারগঞ্জ থেকে কক্সবাজারের শহরতলী পর্যন্ত এ মেরিনড্রাইভ নির্মিত হবে। এ মেরিনড্রাইভটি নির্মিত হচ্ছে এক্সেস কনট্রোল্ড হাইওয়ে হিসেবে। ট্রাফিক ভলিউম ও প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে মেরিনড্রাইভটি চার এবং ছয় লেন করে করা হচ্ছে। প্রতি লেনের দৈর্ঘ্য হবে ৩.৫ মিটার করে। মিরসরাই জোরারগঞ্জ থেকে নগরীর পতেঙ্গা কর্ণফুলী টানেলের মুখ পর্যন্ত হচ্ছে ছয় লেন এবং টানেলের আনোয়ারা প্রান্ত থেকে কক্সবাজার শহরতলী পর্যন্ত হচ্ছে চার লেন। আর প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় হবে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চট্টগ্রামের ভূমিকা অসামান্য ও অপরিসীম হলেও চট্টগ্রামের উন্নয়ন কিন্তু এখনো কাঙ্ক্ষিত মানের নয়। প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রামের উন্নয়নের সুযোগ অনেক বেশি। আর চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে কিন্তু বাংলাদেশের উন্নয়ন। সুতরাং বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থেই চট্টগ্রামের উন্নয়ন করতে হবে। তবে বর্তমান সরকারের গৃহীত বেশ কিছু উন্নয়ন প্রজেক্ট বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম এখন উন্নয়নের মহাসড়কে হাঁটছে। আর চট্টগ্রামের উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশও উন্নয়নের মহাসড়কে হাঁটছে।

এ প্রসঙ্গে বর্তমানে চট্টগ্রামে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়নের বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা যায়। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল, কোরিয়ান ইপিজেড, চায়না ইকোনমিক জোন, মহেশখালী ইকোনমিক জোন, মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল, মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রবন্দর, মহেশখালী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন প্রকল্প, কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ প্রকল্প, চট্টগ্রাম-কঙবাজার সড়কপথ চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প, চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দীর্ঘ ফ্লাইওভার এবং চট্টগ্রাম বন্দর বে-টার্মিনাল প্রকল্প। তা ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম বুলেট ট্রেন বাস্তবায়ন প্রকল্প সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে, যার মাধ্যমে মাত্র এক ঘণ্টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত করা সম্ভব হবে। এসব মেগা প্রজেক্ট ছাড়াও চট্টগ্রামের উন্নয়নে আরো বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এসব মেগা প্রকল্প আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে। এসব প্রকল্পের সুবাধে চট্টগ্রামে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হবে। আর এর সুফল পাবে পুরো দেশ।