মেধা বিকাশে মাদক নির্মূল জরুরি

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী | শনিবার , ২ জুলাই, ২০২২ at ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ

গত ২৬ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা-২০২২’ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জাতির জনকের সুযোগ্য তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি-গবেষণালব্দ জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে আগামীতে নেতৃত্ব দানে প্রস্তুত হওয়ার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের সোনার ছেলে-মেয়েরা তোমরা তৈরি হও আগামীতে দেশকে নেতৃত্ব দিতে। সর্বক্ষেত্রেই তোমরা তোমাদের মেধার বিকাশ ঘটাবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যেন বাংলাদেশ আর পিছিয়ে না থাকে, বাংলাদেশ এগিয়ে যায় এবং উদ্ভাবনী শক্তিতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা আরো উন্নত হয়। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তোমাদের চলতে হবে এবং প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের যে বিকাশ ঘটছে তার সঙ্গে তাল মিলিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকের শিশুরা ভবিষ্যতে এদেশের কর্ণধার হবে। তারাই তো আমার মত প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী-শিক্ষক-বড় বড় কর্মকর্তা হবে এবং প্রশাসন, সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থেকে দেশের উন্নতি করবে। কাজেই সেইভাবে তারা তৈরি হোক।’ বক্তব্যে তিনি কৃষি-বিজ্ঞান-স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন গবেষণার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন আজকের মেধাবীরাই আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। জনশ্রুতি মতে দুঃখজনক হলেও সত্য যে; শিক্ষার চলমান পরিপ্রেক্ষিত পর্যালোচনায় এটি সুস্পষ্ট কতিপয় ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও উচ্চ শিক্ষা বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ-শিক্ষা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদ পদায়নে নানামুখী অপকৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। নামধারী এসব শিক্ষকদের হাতে শিক্ষার্থীরা যথার্থ শিক্ষাগ্রহণ ও দেশপ্রেম-মনন-প্রগতি-যুক্তি-জ্ঞাননির্ভর সমাজ নির্মাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার ব্যাপারে জনমনে ব্যাপক সংশয় তৈরি হয়েছে।

এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য; বাংলাদেশসহ বিশ্বে নরপশুতুল্য মাফিয়াচক্রের কদর্য লোভ-লালসার নতুন সংস্করণ হচ্ছে মাদক আগ্রাসন। ইতিমধ্যেই সমগ্র জনগোষ্ঠী বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাদকাসক্তির পরিসংখ্যান করোনা অতিমারীর চেয়েও ভয়ঙ্কররূপ পরিগ্রহ করেছে। বাংলাদেশও কিন্তু এর বাইরে নয়। অতিপ্রাচীন কাল থেকে সুরা বা মদপান-সুরাসক্তি সমাজে প্রচলিত রয়েছে। পাশ্চাত্য সমাজে বিভিন্ন সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান-অতিথিদের আপ্যায়ন-উৎসব উদ্‌যাপনে মদপান একটি আনুষঙ্গিক রীতি। প্রাচ্যের অনেক দেশে এ ধরনের মদপানের সংস্কৃতি স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। যেমন জাপানে জন্মোৎসব-বিবাহ-বিভিন্ন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়-আনন্দ-শোকাবহ অনুষ্ঠানাদি পালন ‘সাকে’ নামের দেশীয় মদ ব্যতীত প্রায় অসম্ভব বটে। প্রাপ্ত বয়স্ক যেকোন ছেলে-মেয়ে প্রতিনিয়তই আড্ডা-অভিষেক-সমাবর্তন ইত্যাদি পর্বকে আনন্দময় করার জন্য মদপান অত্যন্ত সাবলীল ও গ্রহণযোগ্য সামাজিক কৃষ্টিতে পরিণত। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে; প্রায় ৯০ শতাংশ পবিত্র ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী ধর্মপ্রাণ মুসলমান পরিবারে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দেশে সুরা-মদ-মাদক ব্যবহারের ব্যাপকতা চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। যথাযথ প্রায়োগিক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যত্যয় ঘটলে বেপরোয়া এই মাদক আগ্রাসন থেকে তরুণ প্রজন্মকে উদ্ধার করে সমৃদ্ধ মানবসম্পদ রূপান্তর কঠিন থেকে কঠিনতর পর্যায়ে উপনীত হবে – নি:সন্দেহে তা বলা যায়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে ৩২ ধরনের মাদকের সন্ধান পাওয়া যায়। এসব মাদকের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা, ফেন্সিডিল, হেরোইন, গাঁজা, চোলই-দেশি-বিদেশি মদ, দেশি-বিদেশি বিয়ার, রেক্টিফাইড স্পিরিট, ডিনেচার্ড স্পিরিট, তাড়ি, প্যাথেডিন, বুপ্রেনরফিন (টি.ডি জেসিক ইঞ্জেকশন), ভাং, কোডিন ট্যাবলেট, ফার্মেন্টেড ওয়াশ (জাওয়া), বুপ্রেনরফিন (বনোজেসিক ইঞ্জেকশন), মরফিন, আইচ পিল, ভায়াগ্রা, সানাগ্রা, টলুইন, পটাশিয়াম পারম্যাংগানেট ও মিথাইল-ইথাইল কিটোন ইত্যাদি। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আবির্ভাব হয়েছে এলএসডি, ব্রাউনি, ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, এমফিটামিন পাউডার, ডায়েমেখিল ট্রাইপ্টেমিন, এস্কাফ ও ম্যাজিক মাশরুমের মত ভয়ানক আরও বেশকিছু মাদক। ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের রুট ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল’ (মিয়ানমার-থাইল্যান্ড-লাওস) এবং ‘গোল্ডেন ক্রিসেন্ট’ (পাকিস্তান-আফগানিস্তান-ইরান) এর মাঝামাঝি অবস্থানে হওয়ায় প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার থেকে অরক্ষিত সীমান্ত পথে সবচেয়ে বেশি মাদকের অনুপ্রবেশ ঘটে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদকের প্রবেশপথ হিসেবে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ৩২টি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্ত দিয়ে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা এবং মিজুরামের চারটি পয়েন্ট দিয়ে সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা এবং ফেনীতে মাদক ঢুকছে। সাম্প্রতিক এসব রুটে ভয়াবহ মাদক হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের পাচার রোধে বাংলাদেশের আহ্বানে ভারত সীমান্তের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে ফেন্সিডিল ও ফেন্সিডিল তৈরির উপকরণ সরবরাহ-বহন বন্ধে যথার্থ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে দেশে বর্তমান মাদকসেবীর কোনো যথার্থ তথ্য-উপাত্ত না থাকলেও বেসরকারি সংগঠন মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা ‘মানস’র সূত্রমতে দেশে ৭০ লাখের উপর মাদকসেবী রয়েছে। যাদের ৮০ শতাংশই যুবক। বিভিন্ন পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট মাদকাসক্তদের মধ্যে ৪৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেকার, ৬৫ দশমিক ১ শতাংশ আন্ডার গ্রাজুয়েট, ১৫ শতাংশ উচ্চ শিক্ষার্থী, ২২ দশমিক ৬২ শতাংশ ব্যবসায়ী, ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ চাকরিজীবী, ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ ছাত্র এবং ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ শ্রমিক। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্রটি হচ্ছে ইয়াবা গ্রহণকারী ৮৫ শতাংশই দেশের তরুণ যুবসমাজ। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্রানুসারে দেশে ইয়াবা আসক্তির সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশের তরুণ প্রজন্মের এক-চতুর্থাংশই কোনো না কোনো ধরনের নেশায় আসক্ত। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রতি ১৭ জনে একজন তরুণ মাদকাসক্ত। ছিন্নমূল শিশু-কিশোররাও জুতা তৈরির গাম দিয়ে নিয়মিত নেশায় মত্ত রয়েছে। সম্প্রতি ব্যাপক বৃদ্ধি পাচ্ছে ভয়ংকর মাদক আইস সেবনকারীর সংখ্যাও। এছাড়া প্রায় ৫৭ শতাংশ মাদকাসক্ত যৌন অপরাধী, যাদের ৭ শতাংশ এইচআইভি ভাইরাসে সংক্রমিত। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্তরা নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্তসহ মস্তিস্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, সারা দেশে মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার। তন্মধ্যে মহিলা ২৭ হাজার ৩০০ জন।

মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন-বিস্তাররোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চলমান অভিযানেও মাদক বাণিজ্য থেমে নেই। ২০১৮ সালের ৪ মে থেকে দেশব্যাপী র‌্যাবের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানেও দমিত হয়নি মাদক চালান। ডিএনসির তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সংস্থাটি ২৫ হাজার ৬৫০টি অভিযানে ৬ হাজার মামলা দায়ের এবং ৬ হাজার ৫২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। উক্ত সময়ে জব্দ করা হয় ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৪৪ পিস ইয়াবা, ১ হাজার ৯২০ কেজি গাঁজা, ৯ হাজার ১৬৯ বোতল ফেনসিডিল। এছাড়াও চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ডিএনসি, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড মিলে আটক করে ৬২ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৮ পিস ইয়াবা। ২০১৮সালের ৩ মে থেকে ২০২১ সালের ২০ জুন পর্যন্ত শুধু র‌্যাব কর্তৃক উদ্ধার হয়েছে ৮৪ কেজি হেরোইনসহ ১ হাজার ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য এবং আটক করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৫১৭ জন মাদক কারবারিকে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের মার্চে সারাদেশে মাদক মামলা হয়েছে ৭ হাজার ৬২৫টি। এপ্রিল ও মে মাসে ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৬৪০ ও ২ হাজার ৪৬৫টি মামলা। ২০২১ সালে বিভিন্ন সংস্থা-বাহিনী জব্দ করে সাড়ে ৩৬ কেজি ৭৯৪ গ্রাম আইস। বিশ্লেষকদের মতে, দেশে ঢুকেছে জব্দ হওয়া আইসের চেয়ে আরও অনেক বেশি। যার আনুমানিক মূল্য হতে পারে শত কোটি টাকা। যে পরিমাণ মাদক ধরা পড়ে তার চেয়ে বেশি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। তাই এর বিস্তার বন্ধে প্রয়োজন পাচার রুট বা সরবরাহ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো।

দেশের অর্থনীতিতেও মাদকের বিপুল প্রভাব পরিলক্ষিত। অবৈধ মাদক আমদানির জন্য দেশ থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে অবৈধ মাদক আমদানিতে প্রতি বছর কত টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে এর সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব কারো পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়। মাদকাসক্তের উপর পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে একজন মাদকাসক্তের ১৫০ টাকার মাদক প্রয়োজন। এই হিসাবে বছরে খরচ হয় ৫৪ হাজার ৭৫০ টাকা। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ প্রকাশিত গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত ব্যক্তি ও সংগঠনের ধারণা অনুযায়ী বর্তমানে সারা দেশে সেবনকারীরা প্রতিদিন গড়ে ২০ কোটি টাকার নেশা গ্রহণ করছে। বছরের হিসেবে এর পরিমাণ দাঁড়ায় আনুমানিক ৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

গত ২৬ জুন ২০২২ ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার-বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় সম্মানিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের যুব সমাজ ও তাদের মেধা টিকিয়ে রাখতে গুরুত্ব সহকারে ব্যাপকভাবে ডোপ টেস্ট চালু করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর এই ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে ডোপ টেস্ট করে অনেক মাদকাসক্ত কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত হওয়ার সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘দেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতিকে সামনে রেখে আমরা কাজ করছি। পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি’র পাশাপাশি নোডাল এজেন্সি হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের সাগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন ও জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাদক অপরাধীদের কঠোর আইনের শাস্তির আওতায় আনার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এবং অন্যান্য বিধিমালা যুগোপযোগী করে সংশোধনসহ অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০২২ প্রণয়ন করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোতে লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানো হয়েছে। চারটি বিভাগীয় শহরে টেস্টিং ল্যাব নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।’

সামগ্রিক প্রায়োগিক প্রেক্ষাপটে বলা যায় মাদক একটি সামাজিক অভিশাপ। যুব সমাজকে ধ্বংস করার অন্যতম হাতিয়ার। মাদকের রাহুগ্রাস থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। এই সচেতনতা পরিবার থেকে তৈরি হওয়া দরকার। একটি দেশের গতিপ্রকৃতিকে স্বাভাবিক ধারায় প্রবাহিত করার লক্ষ্যে তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে পরিপুষ্ট উদ্যমী-কর্মঠ-দক্ষ-যোগ্য কর্মবীরের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। দক্ষ কর্মবীর তৈরি ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সরকারের প্রস্তাবিত উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ে আদর্শ-উদ্যমী কর্মবীর সৃষ্টিতে অবশ্যই অবদান রাখবে।

মাদক নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হলে মেধার বিকাশ ও সৃজনশীল মানবসম্পদ উৎপাদন ব্যাহত হবে। মূলত মুক্তির মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে সোনার মানুষ তৈরিতে আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক গুণগত শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। গবেষণার নামে নামমাত্র কিছু প্রকল্পের অবতারণা এবং জালিয়াতি-প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ-অপচয়ের বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। শূন্যমেধা-প্রজ্ঞা-অভিজ্ঞতাবিহীন কথিত শিক্ষক-গবেষকদের পুস্তক রচনা-প্রকাশনাও ছলচাতুরী আশ্রিত কিনা তাও তদন্তের দাবী রাখে। নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত এসব আপাদমস্তক দুর্নীতি-দূর্বৃত্তায়নে লিপ্ত ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে শুধু ডোপ টেস্ট নয়; ডিএনএ পরীক্ষাও জরুরি বলে বিজ্ঞজনেরা মনে করেন।

লেখক : শিক্ষাবিদ, সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।