মীরসরাইয়ের দুর্গম পাহাড়ি ঝিরিপথে প্রাণ গেলো দুই শিক্ষার্থীর

আটকে পড়া আরও ৮ জন উদ্ধার

মীরসরাই প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ১০ জুলাই, ২০২৫ at ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ

ফেনী থেকে মীরসরাইয়ে সোনাপাহাড় এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ দুর্গম ঝিরিপথ ‘মেলখুম’ ঘুরতে এসে দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের লাশ উদ্ধার করেন। নিহত দুজন হলেন সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের নাপিতের চর গ্রামের আমিনুল ইসলাম গালিব (২০) ও ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ধুনিয়ালাপাড়া এলাকার ইব্রাহিম হৃদয় (২২)। তারা দুজন ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে থাকা আরও তিনজন এর আগে উদ্ধার করা হয়; যারা পথ ভুলে গহীন পাহাড়ে আটকে পড়ে। উদ্ধার তিনজন হলেনফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী রায়হান এবং অপর দুইজন হলেন সায়েম ও মিরাজ। এদিকে উপজেলার আরেক স্থানে একইদিন রূপসী নামের ঝর্ণায় আটকে পড়া ঢাকার বিভিন্ন কলেজের আট শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

আহত রায়হান বলেন, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বেলা ১১টায় ফেনী থেকে মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনা পাহাড় এলাকার মেলখুম ট্রেইলে আমরা বেড়াতে যাই। বিকেলের দিকে ট্রেইল এলাকায় ভারী বৃষ্টি হলে আমরা বিপদে পড়ে যাই। এসময় ঝিরিতে একজনের ব্যাগ পড়ে গেলে সেটি নিতে গিয়ে আমাদের সঙ্গে থাকা আমিনুল ইসলাম ও ইব্রাহিম হৃদয় স্রোতের টানে তলিয়ে যায়। আমরা তিনজনও পথ হারিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে সারারাত কাটাই ওখানকার পাহাড়ি এলাকায়। পরে সকালে আমাদের পরিচিত কিছু বন্ধু ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের নিয়ে আমাদের উদ্ধার করেন। আহত স্থানীয় সৈকত ইসলাম মিরাজ বলেন, মেলখুম ট্রেইলে যাওয়ার পর একজনের ব্যাগ পড়ে যায়। তখন ব্যাগ উদ্ধার করতে নামলে মেলখুম ট্রেইলের মধ্যে পড়ে দুইজন মারা যায়। মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক রাজু সিংহ বলেন, মেলখুম ট্রেইলে দুর্ঘটনার শিকার আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি। তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন তিতাস বলেন, সোনাপাহাড় মেলখুম ট্রেইলে পাঁচ পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে বুধবার দুপুর আড়াইটায় গালিব এবং হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করি। এছাড়া আহত তিনজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাজু সিংহ বলেন, আহত অবস্থায় মিরাজ, রায়হান, সায়েম নামে তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।

এই বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হালিম বলেন, উক্ত ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় না যাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা ছিল। তবু অনেকেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেখানে গিয়ে বিপদ ডেকে নিয়ে আসে। এরপর আর কেউ যেন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সেখানে না যায় সেই পরামর্শ সকলের জন্য।

উল্লেখ্য যে, যেই দুর্গম এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে সেটি মানব চলাচলের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বেশ কয়েকজন পর্যটকের হারিয়ে যাওয়া ও মর্মান্তিক মৃত্যুর পর দুবছর আগে থেকে সেখানে যাতায়াত এবং ভ্রমণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল প্রশাসন।

রূপসী ঝর্ণায় আটকে পড়া ৮ শিক্ষার্থী উদ্ধার : বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় নুরনবী নামে একজন কলার ৯৯৯ এ ফোন করে জানানঢাকা কলেজ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি ও আর্মি ইউনিভার্সিটির ৮ জন ছাত্র ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রূপসী ঝর্ণায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। মীরসরাই উপজেলার বড় দারোগাহাট থেকে হাঁটাপথে ট্র্যাকিং করে ঝর্ণা ঘুরে ফেরার পথে দেখেন অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি ঝিরিপথগুলো পানিতে পূর্ণ হয়ে তীব্র স্রোতস্বিনী নদীতে পরিণত হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন সাঁতার জানেন আর চারজন জানেন না। নুরনবী আরো জানানএখন তীব্র স্রোত পাড়ি দিয়ে তাদের পক্ষে ফেরা সম্ভব নয়, এমনকি যারা সাঁতার জানেন তাদের পক্ষেও নয়। তিনি তাদের উদ্ধারের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ৯৯৯এর কাছে অনুরোধ জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, এ সম্পর্কিত প্রথম কলটি রিসিভ করেছিলেন ৯৯৯ কলটেকার এএসআই কাজল ভুঁইয়া এবং দ্বিতীয় কলটি রিসিভ করেছিলেন কনস্টেবল আলমামুন। এএসআই কাজল তাৎক্ষণিকভাবে মীরসরাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে বিষয়টি দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জানান এবং কনস্টেবল মামুন মীরসরাই থানায় বিষয়টি উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত হওয়ার জন্য জানান।

এ বিষয়ে মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ৯৯৯ থেকে সংবাদ পেয়ে মীরসরাই থানার একটি দল ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সাথে উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত হয়। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের উদ্ধারকারী উভয় দলকেই প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে হাঁটাপথে ঘটনাস্থলে যেতে হয়েছে। উদ্ধারপ্রচেষ্টায় তীব্র স্রোতের মধ্যে দড়ি টাঙিয়ে পর্যটক ৮ ছাত্রকে নিরাপদে পার করে নিয়ে আসা হয় এবং নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদুদকের শরীফকে চাকরি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম বোর্ডের কোনো কেন্দ্রে ঝুঁকি নেই, রুটিন অনুযায়ী হবে এইচএসসি পরীক্ষা