মাহে রমজানের সওগাত

মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী

বুধবার , ৬ জুন, ২০১৮ at ৪:০১ পূর্বাহ্ণ
121

আজ বিশ রমজান। ইতিকাফ করার দিন। ইতিকাফের আভিধানিক অর্থ কোনো কিছুকে আঁকড়ে ধরা এবং তাতে নিজেকে আবদ্ধ রাখা।

ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় সংসারের সকল কাজ থেকে দূরে থেকে মসজিদে অবস্থান করে নামাজ, তসবিহ, কোরান তেলাওয়াত, জিকিরসহ নানা প্রকার পুণ্যময় ইবাদত পালন করাকে ইতিকাফ বলা হয়। রমজান মাসের শেষ দশ দিন একাধারে মসজিদে ইতিকাফ করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া। একটা পাড়ায় বা মহল্লার কমপক্ষে একজন ইতিকাফ করা অপরিহার্য। পাড়ার কেউ ইতিকাফ না করলে সকলে গুনাহগার হবে। মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বছর রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করেছেন। তাঁর পরে তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করেছেন। (বোখারী শরীফ)

মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরানে ইতিকাফের কথা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো সেই সময়ের কথা, যখন আমি কাবা ঘরকে মানব জাতির মিলনকেন্দ্র ও নিরাপত্তার স্থল করেছিলাম এবং বলেছিলাম, তোমরা ইব্রাহিমের দাঁড়ানোর স্থানকে নামাজের জায়গারূপে গ্রহণ কর এবং ইব্রাহিম ও ইসমাঈলকে আমার ঘর তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখতে আদেশ দিয়েছিলাম। (সূরা বাকারা : ১২৫)

মহান আল্লাহ পাকের ঘোষণা অনুযায়ী কাবা ঘর নির্মিত হয়েছে তাওয়াফ, ইতিকাফ ও রুকুসিজদার (নামাজ) উদ্দেশ্যে। ইতিকাফ হলো তাওয়াফ, রুকু ও সিজদার মতো একটি ইবাদত। ইতিকাফের উদ্দেশ্য হলো, সব দিক হতে মুখ ফিরিয়ে মহান আল্লাহর সাথে সম্পর্ক সুনিবিড় করা। সকল ব্যস্ততা হতে মুক্ত হয়ে কিছু সময়ের জন্য একাগ্র চিত্রে আল্লাহর ধ্যানমগ্ন থাকা। মারাফিউল ফালাহর লেখক বলেন, ‘ইতিকাফ যদি ইখলাসের নিয়তে হয় তাহলে একটি এক শ্রেষ্ঠ ইবাদত।’

মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘ইতিকাফকারী গুণাহ হতে মুক্ত থাকে এবং সমস্ত আমলকারীর মতো অধিক পুণ্য তাকে প্রদান করা হয়।’ (মিশকাত শরীফ)

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণনা করেছেন, প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের প্রথম দশ দিন ইতিকাফ করলেন। তারপর দ্বিতীয় দশ দিনও ইতিকাফ করলেন। তারপর তিনি বললেন, ‘আমি এ রাতের (শবে কদর) সন্ধানে প্রথম ও দ্বিতীয় দশ দিন ইতিকাফ করার পর এক ফেরেস্তা দ্বারা আমাকে জানানো হলো, রাতটি রমজানের শেষ দশ দিনের মধ্যে লুক্বায়িত আছে। তাই আমার সাথে যারা ইতিকাফ করছ তাদের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা উচিত। (বোখারী শরীফ)

এই হাদিস দ্বারা আত্মস্থ হয় যে, শবে কদরের রাতটি পাওয়াই ইতিকাফের উদ্দেশ্য। ইতিকাফকারী যেহেতু ইবাদতের মধ্যে নিয়োজিত থাকে, সুতরাং হাজার মাস হতে শ্রেষ্ঠ রাত লাইলাতুল কদর হতে সে বঞ্চিত হয় না।

হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) ইরশাদ করেছেন, ইতিকাফকারীর ওপর সুন্নাত হলো, কোনো অসুস্থ ব্যক্তির দেখাশুনা না করা, জানাজায় শরীফ না হওয়া, স্ত্রীকে স্পর্শ না করা, স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশা না করা, প্রয়োজন ব্যতিত মসজিদের বাইরে না যাওয়া, রোজা ছাড়া ইতিকাফ না করা, জুমা মসজিদে ইতিকাফ করা। (আবু দাউদ শরীফ)

একজন ইতিকাফকারীর জন্য প্রয়োজন হলো ইতিকাফকারীর করণীয় ও বর্জনীয় কাজ সম্পর্কে জেনে ইতিকাফ করা।

x