মশা মারতে ব্যাঙ

| সোমবার , ২২ মার্চ, ২০২১ at ৬:৩৫ পূর্বাহ্ণ

মশা মারতে এবার ঢাকার জলাশয়ে ব্যাঙ ছাড়তে শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। এর মধ্যে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে দশটি জলাশয়ে হাজার দশেক ব্যাঙাচি অর্থাৎ ব্যাঙের পোনা ছাড়া হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, ব্যাঙের পোনাগুলোকে জলাশয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই পোনা পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙে রূপান্তরিত হবে। তখন তারা মশার লার্ভা খেতে শুরু করবে। মূল পরিকল্পনা হচ্ছে এই ব্যাঙাচি পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ হবে। তারা বংশবিস্তার করবে এবং মশার লার্ভা খেয়ে মশার বিস্তার ঠেকাবে। খবর বিবিসি বাংলার।
মশার জ্বালায় অতিষ্ঠ নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে এর আগেও অভিনব কর্মসূচি হাতে নেয় সিটি কর্পোরেশনগুলো। এর আগে জলাশয়ে গাপ্পি মাছ, হাঁস, তেলাপিয়া মাছ ছেড়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। এসব উদ্যোগ সফল হয়েছে বলে শোনা যায়নি।
ব্যাঙ কীভাবে মশা দমন করবে : এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, সিটি কর্পোরেশন মূলত চারভাবে মশা নিধন করে। মশার জন্মের উৎস ধ্বংস করে, জৈবিক পদ্ধতিতে মানে অন্য কোনো প্রাণী দিয়ে লার্ভা নির্মূলের ব্যবস্থা করে। ওষুধ ছিটিয়ে ও ফগার মেশিন দিয়ে ধোঁয়া ছিটিয়ে করে। এর মধ্যে জৈবিক পদ্ধতি হচ্ছে খাল, জলাশয়, নালাসহ বদ্ধ জলাশয়ে অন্য প্রাণীর বিচরণের ব্যবস্থা করা, যাতে ওইসব প্রাণী ছোটখাট পোকামাকড় খেয়ে জীবনধারণ করে। তাদের খাবারের তালিকায় মশা ও তাদের লার্ভা যুক্ত হলে মশা বংশবিস্তার করতে পারবে না। ফলে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই মশা নিধন হবে।
তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক কবিরুল বাশার বলেন, ঢাকা শহরের পানি প্রচণ্ড দূষিত। এতে ব্যাঙের পোনা বেঁচে না থাকারই কথা। যদি বেঁচেও থাকে সেগুলো মশা মারার জন্য কতটা সক্ষম থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। মশক নিধনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় জোর দেন তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকালভার্টটি খালেই পড়ে আছে ৫ বছর
পরবর্তী নিবন্ধসড়কে দুই মহিলাসহ তিনজনের মৃত্যু