মধ্যরাতে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঢুকে সশস্ত্র তাণ্ডব চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। লুট করে নিয়ে গেছে ৫০ ভরি স্বর্ণ, লাইসেন্স করা তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ মূল্যবান মালামাল। আহত হয়েছেন বাড়ির কয়েকজন। সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে দুর্বৃত্তদের পালানোর চিত্র। পুলিশ বলছে, জায়গার মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে এই ঘটনা।
চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির পাশে ম্যানোলা বাংলো নামে পরিচিত একটি বাড়িতে গত শনিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনা সম্পর্কে জানতে একের পর এক চকবাজার থানার ওসি ও এসির নম্বরে ফোন করলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। পরে ডিউটি অফিসারকে ফোন করলে তিনি জানান, ওই বাড়ির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা। এ ঘটনার সংবাদ তারা সাংবাদিকদের কাছ থেকে জেনেছেন। যদি কেউ অভিযোগ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের ভেতরটা লণ্ডভণ্ড। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শনিবার রাত ১টার দিকে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ৫০ ভরি স্বর্ণ, ল্যাপটপ, দশটি মোবাইল, তিনটি লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রসহ মূল্যবান অনেক মালামাল নিয়ে গেছে।
বাড়ির সদস্য সৈয়দ আম্মান রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর লাইসেন্স আমার আব্বা ও চাচার নামে আছে। ঘটনার পর কয়েকবার চকবাজার থানাকে জানানো হলেও পুলিশ এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

পরিবারের অপর একজন সদস্য হাবিব বলেন, তারা এসেছিল প্রায় আড়াইশজনের মতো। একশজন উপরে উঠেছে। বাকি দেড়শজন পুরো পাহাড়টাকে ঘিরে রেখেছিল। উপরে যারা উঠেছে তাদের মধ্যে প্রায় ৭০/৮০ জন বাড়ির ভেতরে ঢুকে আমার দুই কাজিনকে অপহরণ করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। তার আগে মারধর করে। এরপর প্রত্যেকটি রুমে ঢুকে তাণ্ডব চালায়, জিনিসপত্র লুট করে। অবশ্য কয়েক ঘণ্টা পর তাদেরকে মেডিকেল সেন্টারের সামনে নামিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী মহলটি চেয়েছিল আদালতের ইনজাংশন জারি থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক দখল নিতে। পুলিশ মামলা নিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা না হয়ে কই যাবে? তিনটা লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র মিসিং। মামলা তো অবশ্যই হবে।
পরিবারের সদস্য নিসার আহম্মেদ বলেন, আমরা কিন্তু এখনো নিরাপদ নই। কারণ পুলিশকে এখনো আমরা দেখছি না। আর আমাদের যেকোনো সময় হত্যা করা হতে পারে। লুটের পাশাপাশি মারধরও করা হয় বাড়ির দারোয়ান, বাবুর্চি ও পরিবারের সদস্যদের।
দারোয়ান ও বাবুর্চি দুর্বৃত্তদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তাদের অস্ত্র ছিল, মাস্ক পরা ছিল। অস্ত্র ধরে তারা আমাদের মোবাইল, টাকা পয়সা নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজাদীকে জানান, রাত একটার দিকে দুই-আড়াইশ লোক এসেছে। এটা নিছক ডাকাতির ঘটনা নয়। তারা সাথে করে ট্রাক নিয়ে এসেছে। ট্রাকে ছিল সাইনবোর্ড, সিমেন্ট, বালু মেশানোর মেশিনসহ বাড়ি সংস্কারের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি। তিনি বলেন, শুনেছি একটি প্রভাবশালী মহল এ জায়গাটি দখল করতে চায়।
পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজ (রোববার) ভোরে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর আনজুমান আরা দফায় দফায় ওসি চকবাজারকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ আসেনি। তবে একটা বিষয় আমাকে অবাক করেছে। সেটা হলো রাতে তারা যেভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে এসেছে, তাতে খুব সহজেই পুরো জায়গাটা দখলে নিতে পারত। তা না করে চলে গেছে। এর কারণ আমার কাছে মনে হচ্ছে, কাউন্সিলর আনজুমান আরাকে দেখেই তারা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে।












