ভবনের ন্যায্য পাওনা বুঝে নিতে গিয়ে জমির মালিক হামলার শিকার

চান্দগাঁওয়ে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ at ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ

নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এএনএফএল নামক ভবনের ন্যায্য পাওনা বুঝে নিতে গিয়ে গুরুতর আহত হলেন জমির মালিক মৃত রাজা মিয়ার ছেলে শেখ মো. মিঠু প্রকাশ মোকাদ্দেস (২৬)। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০ নং ওয়ার্ডের চক্ষু বিভাগে ভর্তি আছেন। এ ঘটনায় হামলাকারী ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান এএনএফএল এর প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

বিরোধের সত্যতা নিশ্চিত করে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খাইরুল ইসলাম আজাদীকে বলেন, দুই পক্ষই মামলা করেছে। মিঠুর বোন বাদী হয়ে একটি এবং অপর পক্ষে আহসানুল করিম বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। আমরা মামলা দুটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার বিবরণে আহত মিঠুর বড় ভাই মোশাররফ আজাদীকে বলেন, ২০১০ সালে মোস্তাফিজুর রহমানের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সাথে আমার আব্বার চুক্তি হয়েছিল যে, ২০১৬ সালের মধ্যে ভবনটি তার প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করবে এবং আমাদের পাওনা আমাদের বুঝিয়ে দেবেন। কিন্তু তা করতে পারেননি। এরপর আরও ছয় মাস বাড়িয়ে দেওয়া হলেও তারা ব্যর্থ হন। শুধু তাই নয় আজ তের বছর হতে চললেও আমাদের পাওনা তারা বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। একাধিকবার বৈঠকেও এর সমাধান হয়নি। করোনাকালীনও সিরিজ বৈঠক করা হয়েছে। এরপর লিগ্যাল নোটিশ দিলেও কাজ হয়নি। একপর্যায়ে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয় যে, একজন প্রকৌশলী নিয়ে গিয়ে একটি প্ল্যান করাতে এবং সেই অনুযায়ী বণ্টন করা হবে। আমরা তাও করেছি। সমাধান আসেনি। এর মধ্যে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে মোস্তাফিজ সাহেব নিয়ে আসেন আহসানুল করিমকে। তিনি এসে আমাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিতে থাকেন। কখনো অপহরণ মামলা দেন, কখনো আমাদের সৎ বোনকে দিয়ে মামলা করিয়েছেন। আমরা জেল খেটেছি। মোশাররফ জানান, তিনি নিজেও তিন মাস জেল খেটে কিছুদিন আগে বের হয়েছেন। তিনি জানান, ৩১ জানুয়ারি সকালে জমির মালিক রাজা মিয়ার পুত্র মোকাদ্দেস মিঠু আলোচনা করতে গেলে আহসানুল করিমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মিঠুকে এলোপাথারি মারধর করে আহত করে। ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে আহসানুল করিমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে (০১৮১৯৩১৯৭৭৩) বারবার চেষ্টা করলেও অজ্ঞাত কারণে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।