কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুলে বখাটেদের কবল থেকে বোনকে রক্ষা করতে গিয়ে বেদম মারধরের শিকার হয়েছে তার ভাই। গত ৩১ মে বিকালে সংঘটিত এ ঘটনাটির একটি ভিডিও ১১ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপরই গতকাল ১২ জুন ভোরে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে এই ঘটনায় জড়িত দুই বখাটেকে গ্রেপ্তার করেছে। দুই বখাটে হলো- খুরুশকুল মনুপাড়ার নুরুল আলমের ছেলে রায়হান (২০) ও কুলিয়া পাড়ার নুরুন্নবীর ছেলে আরমান (২০)। তবে এই ঘটনার প্রধান হোতা মো. জামাল ওরফে জামাইল্যাকে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় বখাটেরা এক তরুণীকে ফিল্মি স্টাইলে তুলে নিয়ে যাওয়ার
চেষ্টা করে। এ সময় বোনকে রক্ষায় এগিয়ে আসে ওই তরুণীর ভাই। তিনি বখাটেদের কাছ থেকে বোনকে রক্ষা করতে পারলেও তাদের বেধড়ক মারধরের শিকার হন। বখাটেরা দীর্ঘক্ষণ ধরে ভাইবোনকে মারধর করে। গত ৩১ মে কক্সবাজারের সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউপির আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন মনুপাড়া এলাকায় ওই ঘটনা ঘটলেও ১১ জুন এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে পুলিশ সকালে অভিযান চালিয়ে রায়হান ও আরমান নামে দুই বখাটেকে গ্রেপ্তার করে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মুনির উল গিয়াস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
ঘটনার ভুক্তভোগী আব্দুল মোনাফ বলেন, ‘গত ৩১ মে আশ্রয়ণ প্রকল্পে অবস্থিত আমাদের ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে আমার বোন মামার বাড়ি যাচ্ছিল। পথে খুরুশকুল মনুপাড়ার জামাল-রায়হানরা আমার বোনকে কু-প্রস্তাব দেয় এবং নোংরা ভাষায় কটূক্তি করে। আমার বোন নীরবে বাড়ি ফিরে আসতে চাইলেও বখাটেরা বারবার তার পথ আটকায়। আমি আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে এসব দেখে দৌঁড়ে আসি। তাদের কাছে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তারা আমার বোনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। তখন আমি বোনকে জড়িয়ে ধরে তাকে রক্ষার চেষ্টা করি। এ অবস্থায় তারা আমাকে নির্দয়ভাবে পেটায়।’ এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে তিনি জানান।
এদিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মুনির উল গিয়াস জানান, শনিবার রাতে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে আরমান ও রায়হান নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, সেখানে বসবাসকারী স্কুলছাত্রী ও তরুণীরা স্থানীয় কিছু বখাটের হাতে প্রায়ই ইভটিজিংসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।












