পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নগরীর জিইসি মোড়ে অবস্থিত মেরিডিয়ান রেস্টুরেন্ট পুরো মাসজুড়ে বিশেষ ইফতার ও ডিনারের আয়োজন করেছে। সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর নানা পদে সাজানো এই আয়োজন ঘিরে প্রতিদিনই ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে। পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যে ইফতার করার জন্য রাখা হয়েছে সাশ্রয়ী সেট মেনু, টেকওয়ে প্যাকেজ এবং আকর্ষণীয় বুফে সার্ভিস। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিকেল গড়াতেই রেস্টুরেন্টের সামনে ইফতার কিনতে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। কাউন্টারে সাজানো থাকে নানা ধরনের ভাজাপোড়া, স্ন্যাকস, মাংস ও নুডলসজাতীয় খাবার। ক্রেতাদের সুবিধার জন্য দ্রুত সার্ভিস নিশ্চিত করতে কর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। রেস্টুরেন্ট সূত্র জানায়, স্বল্প মূল্যে এখানে প্রায় ২৯ ধরনের জনপ্রিয় ইফতার আইটেম পাওয়া যাচ্ছে, যাতে বিভিন্ন বয়স ও পছন্দের মানুষের চাহিদা পূরণ করা যায়।
যারা রেস্টুরেন্টে বসে ইফতার করতে চান, তাদের জন্য রাখা হয়েছে দুটি আলাদা সেট মেনু। একটি ৮৫০ টাকা এবং অন্যটি ৯৯০ টাকার প্যাকেজ, যেখানে ইফতারের প্রয়োজনীয় একাধিক আইটেম একসঙ্গে পরিবেশন করা হয়। আবার যারা বাড়িতে নিয়ে যেতে চান, তাদের জন্য টেকওয়ে মেনুও রয়েছে দুই ধরনের ৫০০ ও ৬৮০ টাকার প্যাকেজে সাজানো খাবার সহজেই সংগ্রহ করা যাচ্ছে। এতে কর্মজীবী মানুষ কিংবা ব্যস্ত পরিবারের জন্য সময় বাঁচিয়ে ইফতার নেওয়া সহজ হচ্ছে। এ ছাড়া পরিবার–পরিজন বা দলবদ্ধভাবে ইফতার করার জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ বুফে সার্ভিস। মাত্র ১১৫০ টাকায় ইফতার বুফের পাশাপাশি ডিনারের ব্যবস্থাও পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুফে মেনুতে দেশি–বিদেশি বিভিন্ন জনপ্রিয় পদ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে চাওমিন, ফ্রাইড রাইস, ফ্রাইড চিকেন, চিকেন মোমো ও স্পেশাল হালিম ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। অনেকেই একই সঙ্গে ইফতার ও রাতের খাবার সেরে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা ব্যস্ত নগর জীবনে বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখছেন গ্রাহকরা।
ইফতার কিনতে আসা নাসিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, পরিবারের জন্য প্রায়ই এখান থেকে ইফতার নেওয়া হয়। খাবারের মান ও স্বাদ ভালো হওয়ায় তারা আস্থা রাখেন। তিনি জানান, দাম তুলনামূলক সহনীয় এবং পরিবেশনও দ্রুত হওয়ায় এখানে আসতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আরেক ক্রেতা পারভিন আক্তার বলেন, বিশেষ করে এখানকার মোমো ও ফ্রাইড রাইস তার পরিবারের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। খাবারের মান স্থির থাকায় তারা নিয়মিত এখান থেকে অর্ডার দেন। রেস্টুরেন্টের কো–অর্ডিনেটর (বিজনেস অপারেশন) নোয়েল সিকদার জানান, শুরুতে অনেকেই এটিকে কেবল অভিজাত রেস্টুরেন্ট মনে করতেন এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা দ্বিধায় থাকতেন। সেই ধারণা দূর করতে তারা কাউন্টার থেকে ইফতার বিক্রি চালু করেন, যাতে সব শ্রেণির মানুষ সহজে খাবার নিতে পারেন। তিনি বলেন, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে মানসম্মত খাবার সবার নাগালের মধ্যে রাখা এবং একই সঙ্গে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে রান্না করা হয় এবং অভিজ্ঞ বিদেশি রাঁধুনির তত্ত্বাবধানে খাবারের স্বাদ ও মান বজায় রাখা হয়। প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিনই প্রস্তুত করা হয়, কোনো খাবার সংরক্ষণ করে পরদিন পরিবেশন করা হয় না। অবশিষ্ট খাবার রাতে কর্মচারী ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়, যাতে খাবারের অপচয় না হয়।
রমজানজুড়ে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের আশা, মানসম্মত খাবার, সাশ্রয়ী প্যাকেজ এবং পারিবারিক পরিবেশের কারণে চলতি রমজানে আরও বেশি মানুষ এখানে ইফতার করতে আসবেন।












