বৃষ্টির অভাব, আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা

হাটহাজারীতে কৃষকদের মধ্যে হতাশা

হাটহাজারী প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ২৫ জুলাই, ২০২৩ at ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ

বর্ষার ভরা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা নেই। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় হাটহাজারীতে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, এবার বর্ষায় প্রয়োজনীয় বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা জমিতে চাষ দিতে পারছেন না। কিছুদিন আগে বৃষ্টির পর অনেকে বীজতলা তৈরি করেন। কেউ কেউ জমিতেও চাষ দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চাষ দেওয়া জমিগুলো শুকিয়ে গেছে। তাছাড়া প্রচন্ড গরমে ধানের বীজতলায় ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় যেসব জমিতে সেচ সুবিধা রয়েছে সেখানেও অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরিও বাড়ছে দিন দিন। এ অবস্থায় বাড়তি খরচ ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এই আমন মৌসুমে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় উপজেলার আওতাধীন বিভিন্ন খাল, ছড়া শুকিয়ে গেছে। হালদা নদীর সংযোগ খাল ও ছড়ার যেসব স্থানে স্লুইস গেইট রয়েছে সেখানে জোয়ারের সময় গেইট খোলা রেখে পানি ঢুকিয়ে জমিতে সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এনায়েতপুর এলাকার কৃষক ওয়াহিদ উল আলম জানান, বৃষ্টির অভাবে তার ধানের চারা প্রায় মরে যাওয়ার অবস্থা। চারা রোপণের সময় চলে যাচ্ছে কিন্তু জমিতে পানির অভাবে চাষ দিতে না পেরে চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। স্থানীয় খাল ও ছরার পাশে তার যে জমি রয়েছে সেখানে সেচ দিয়ে চারা লাগানো গেলে ও অন্য জমিতে চাষ দেয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া সেচ দিতে গিয়ে বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ছিপাতলী ইউনিয়নের কাজিরখীল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ লোকমান মেম্বার জানান, বৃষ্টির অভাবে তার জমিতে চাষ দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে চারা রোপণের জমি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি হালদা নদীর সংযোগ বোয়ালিয়া স্লুইস গেইট জোয়ারের সময় খুলে দেওয়ার দাবি জানান।

হাটহাজারী উপজেলা কৃষি কর্মকতা কৃষিবিদ আল মামুন শিকদার জানান, এবারের আমন মৌসুমে এই উপজেলায় প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমি ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, হালদা নদীর সংযোগ খাল ও ছড়ায় যেসব স্লুইস গেইট রয়েছে জোয়ারের সময় সেইসব গেইট খুলে দিয়ে পানি ঢুকিয়ে গেইট বন্ধ করে দিয়ে কৃষকদের সেচ সুবিধা দিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতা চেয়েছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনিরপরাধ মানুষ হত্যাকারীরা ইসলামের দুশমন
পরবর্তী নিবন্ধরোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুর প্রকোপ