পারিবারিকভাবে ১ মাস ১৯ দিন আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নববধূর সাজে স্বামীর ঘরে পা রেখেছিলেন মোছা. ঝুমা আক্তার (১৯)। তবে হাতের মেহেদির রঙ শুকানোর আগেই স্বামীর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, ঝুমাকে পরকীয়ার বলি হতে হয়েছে। তার স্বামীর সঙ্গে এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পাষণ্ড স্বামীর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনে ঝুমার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গত রোববার ঝুমার পিতা মো. শাহ আলম বাদী হয়ে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বামী মো. নেওয়াজ শরীফ প্রকাশ বাবুকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা যায়, ঝুমা আক্তার উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের কারকনের পাড়া এলাকার চাঁন মিয়া টেন্ডল বাড়ির মো. শাহ আলমের কনিষ্ঠ কন্যা। গত ১৯ মার্চ দুপুরে উপজেলার আমান বাজার এলাকার পশ্চিমে চসিক ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের করিম বেকারি বাড়ির আমিন ভিলার দ্বিতীয় তলার শয়ন কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ঝুমার স্বামী স্থানীয় আজগর আলীর পুত্র মো. নেওয়াজ শরীফ প্রকাশ বাবু থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে।
এদিকে ওয়াশরুমের ভেন্টিলেশনের গ্রিলের সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ঝুমার স্বামীর পরিবারের সদস্যরা পুলিশ ও গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। তবে ঝুমার পরিবারের দাবি, ঝুমাকে পরকীয়ার বলি হতে হয়েছে। তার স্বামী মো. নেওয়াজ শরীফের সঙ্গে এক মেয়ের পরকীয়া রয়েছে। ঝুমার বড় ভাই তৌহিদুল আলম বলেন, আমি প্রবাসে থাকি। প্রবাস থেকে এসে জাঁকজমকপূর্ণভাবে ছোট বোনটিকে বিয়ে দিয়েছিলাম। বিয়ের ১ মাস ১৯ দিনের মাথায় তাকে লাশ হতে হল। তিনি বলেন, আমার বোন আত্মহত্যা করেনি। তাকে তার স্বামী মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
ঝুমার বড় বোন শামীমা আক্তার রুমি গণমাধ্যমকে জানান, আমার ছোট বোনের সাথে বিয়ের পর থেকে তার স্বামী নেওয়াজ স্বাভাবিক কোনো আচরণ করেনি। এসব বিষয় সে আমাকে প্রতিনিয়ত জানাত। আমি তাকে ধৈর্য ধারণ করতে বলতাম। এর মধ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় আমার ছোট বোন আমাকে তার স্বামীর একটা ভয়েস রেকর্ড পাঠায়। ওই কল রেকর্ডটিতে তার (ঝুমা) স্বামীকে একটা মেয়েকে বলতে শোনা গেছে– “আমি তো বলছি তোমাকে বিয়ে করব; সমস্যা নাই। এরপরও যদি এরকম কর তাহলে তো আর কিছু করার নাই। মানুষ মানুষকে এভাবে অবিশ্বাস করলে চলে না। তুমি অনলাইনে আছো; আমি কল দিচ্ছি, অথচ তুমি বলতেছো ডাটা নাই।”
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. জাহিদুর রহমান বলেন, নববধূ ঝুমার পিতা বাদী হয়ে মেয়ের স্বামীকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এরই মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।










