চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞার হস্তক্ষেপে হাম থেকে সুস্থ হওয়া পাঁচ মাস বয়সী শিশুর চিকিৎসা বিল মওকুফ করেছে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল। দরিদ্র জেলে পরিবারটি শিশুটির চিকিৎসার বিল পরিশোধে অপারগ হওয়ায় জেলা প্রশাসক নিজ উদ্যোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে এই সহায়তা দেন।
জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল শিশু জয়া দাসকে জিইসি এলাকার এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৫ দিনে শিশুটির চিকিৎসার বিল আসে দুই লাখ ৩৩ হাজার টাকা। কিন্তু নগরীর কাঠগড় এলাকার জেলে পাড়ার বাসিন্দা শিশুটির বাবা সুমন জলদাস ধার করে বিলের ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা দিতে পারছিলেন না। সে জন্য হাসপাতাল থেকেও শিশুটিকে ছাড়া হচ্ছিল না। হাম থেকে সুস্থ হওয়ার পরও শিশু জয়া দাসের পরিবার অর্থের অভাবে বিল পরিশোধ করতে পারছে না এমন সংবাদ শুনে এগিয়ে আসেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক। তিনি গতকাল জিইসি এলাকার এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতালে শিশুকে দেখতে যান। সেখানে তিনি শিশুটির বাবা সুমন জলদাস এবং মা রিতা দাসকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং চিকিৎসা–পরবর্তী সহায়তার কথাও জানান। এ সময় হাসপাতালের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলী ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
শিশুটির বাবা সুমন জলদাস বলেন, আমি কখনো ভাবিনি ডিসি স্যার এসে আমার মেয়ের সব বিল এভাবে মওকুফ করে দেবেন। স্যার যদি সহযোগিতা না করতেন, তাহলে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে হত, মাইকিং করতে হত। আমি হাসপাতালকে বলেছিলাম, ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি, এর বেশি পারব না। আমার মেয়েটাকে আমাকে দিয়ে দেন। মেয়ের জন্য জেলেও যেতে রাজি ছিলাম। ডিসি স্যার আমার মেয়েকে দেখতে এসেছেন, এটা আমার মেয়ের ভাগ্য। আমি মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে আবার ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করতে আসব।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতালে জেলে পল্লীর বাসিন্দা এক বাবা তার মেয়েকে ভর্তি করায়। তার নাম জয়া দাস; সে সুস্থ হয়েছে। হাসপাতালে সে আইসিইউতে ছিল। এতে যে বিল হয়েছে, তা পরিশোধ করার ক্ষমতা বাবার ছিল না। এ বিষয়ে গতরাতে জানার পর আমার কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আপনি বলেছেন তাই উনার যত বিলই আসুক সেটা আমরা নেব না। শিশুটি জেলে পরিবারের সেটিও উনার জানা ছিল না।
হাসপাতালটির চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলী বলেন, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন গতকাল রাতে আমাকে ফোন করেছিলেন। উনাদের সঙ্গে কথা হওয়ার পর আমরা বিল মওকুফ করে দিয়েছি।













