বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিভৃতচারী কালজয়ী ঔপন্যাসিক

সৈয়দ আসাদুজ্জামান সুহান

মঙ্গলবার , ১২ নভেম্বর, ২০১৯ at ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
6

বাংলা গদ্য সাহিত্যে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। জনপ্রিয়তায় বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ-শরৎচন্দ্রের পরে যদি কারো নাম জিজ্ঞাসা করা হয় তবে নিঃসন্দেহে তিনি হলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা উপন্যাসে শ্রেষ্ঠত্বের আসন যিনি নিজ গুণে দখল করে নিয়েছেন তার রচনায় মধুর ও কাব্যধর্মী ভাষাশৈলী প্রয়োগের মাধ্যমে। গ্রামীণ জীবনের অসামান্য রূপকার, নিম্নবর্গের কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদি প্রাণের আধুনিক বন্দনাকার বিভূতিভূষণ নিসর্গ চেতনার বাতিঘর। মানব জীবনের রহস্য, জটিলতা, কিছু সুখ, অল্প হাসি-কান্না আর কিছুটা মান-অভিমানকে যিনি সার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তার লেখনীর ভিতর দিয়ে। বাংলা সাহিত্যে মৌলিক রচনা হিসেবে বিবেচ্য তার লেখায় ভাষার মাধুর্য, চরিত্রের সাবলীল উপস্থাপন ও ব্যাপকতার ভিতর দিয়ে গ্রামীণ সৌন্দর্য এবং মানুষের জীবন ও সত্তার এক অদ্ভুত বাস্তবতা দেখা যায়। শুধু তাই নয়, বাঙালি নিম্নমধ্যবিত্তের অর্থনৈতিক ও সামজিক জীবনের চিত্রগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন এক দক্ষ শিল্পীর মতোই তার সাহিত্যের চির সবুজ পাতাগুলোতে। সাহিত্য সমালোচকদের মতে, বিভূতিভূষণ যে মানবজগৎ সৃষ্টি করেছিলেন তা সারল্যে অসাধারণ। সনাতন গ্রামবাংলার জনজীবনের চিরায়ত ছবি তিনি এঁকেছেন নিপুণ, দক্ষ শিল্পকুশলতায়। গভীর মমতায়, শ্রমে তিনি এই কীর্তি স্থাপন করে গেছেন। কথাশিল্পী হিসেবে আশ্চর্যরকম সফল তিনি। গ্রামীণ জীবনের শান্ত, সরল, স্নিগ্ধ ও বিশ্বস্ত ছবি ফুটে ওঠে তার নিরাসক্ত কথকতা ও বয়ানে, চুম্বকের মতো টেনে নেয় পাঠককে। মুগ্ধ করে, বিস্মিত করে। অথচ পথের পাঁচালী, অপরাজিত, আরণ্যক, ইছামতির মতো অসামান্য সব উপন্যাসের রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখালেখির জীবন ছিল স্বল্প। মাত্র আটাশ বছর। এই লেখকের আয়ু ছিল মাত্র ৫৬ বছর। তাঁর রচনাসম্ভারের মধ্যে রয়েছে ১৫টি উপন্যাস, ২০টি গল্পগ্রন্থ, ৭টি কিশোর উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনী এবং দিনলিপি।

প্রখ্যাত সংস্কৃত পন্ডিত মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মৃণালিনী দেবীর সন্তান বিভূতিভূষণ পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার কাচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে নিজ মামার বাড়িতে ১৮৯৪ সালের ১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস একই জেলার বনগাঁর নিকট বারাকপুর গ্রামে। পিতামাতার পাঁচ সন্তানের মধ্য বিভূতিভূষণ ছিলেন সবার বড়। বিভূতিভূষণের ছোটবেলা কেটেছে দারিদ্র্যের মধ্যে দিয়ে। বিভূতিভূষণের পড়ালেখার পাঠ শুরু হয় পিতার কাছে। অষ্টম শে্রিণতে পড়ার সময় হঠাৎ তার পিতা মারা যান। ১৯১৪ সালে প্রথম বিভাগে এনট্রান্স এবং ১৯১৬ সালে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আইএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯১৮ সালে একই কলেজ থেকে বি.এ পরীক্ষায় ডিস্টিইংশন সহ পাস করেন। এরপর তিনি এমএ ও আইন বিষয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। আইন বিষয়ে ভর্তি হয়েও পাঠ অসমাপ্ত রেখে ১৯১৯ সালে তিনি হুগলির একটি মাইনর স্কুলে শিক্ষকতার পেশা গ্রহণ করেন। বিভূতিভূষণ বিয়ের পাট চুকিয়ে নেন ২৩ বছর বয়সে। ১৯১৯ সালে বসিরহাটের মোক্তার কালীভূষণ মুখোপাধ্যায়ের কন্যা গৌরী দেবীর সাথে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের এক বছর পরই গৌরী দেবী নিউমোনিয়ায় মারা যায়। এর কিছুদিনের মধ্যেই ছোট বোন মণি সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মারা যায়। এই দুটি মর্মান্তিক ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে মারাত্মক আঘাত পান। পরবর্তীতে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর দীর্ঘ ২৩ বছর পর ফরিদপুর জেলার ছয়গাঁও নিবাসী ষোড়শীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে রমা দেবীকে বিয়ে করেন। এই বিয়ে তার সাহিত্য জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। বিয়ের সাত বছর পর একমাত্র সন্তান তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন। পেশাগত জীবনের প্রথমেই হুগলির জাঙ্গিপাড়া মাইনর স্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি সোনারপুর হরিণাভি স্কুলেও কিছু দিন শিক্ষকতা করেন। কিছুদিন গোরক্ষিণী সভার প্রচারক হিসেবে বাংলা, ত্রিপুরা ও আরাকানের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করেন। দেশে গো সম্পদ সুরক্ষা করার বিষয়ে জনমত সৃষ্টি ছিল এই প্রচারকের লক্ষ্য। তারপর তিনি পাথুরিয়াঘাটার জমিদার খেরাতচন্দ্র ঘোষের এস্টেটে সেক্রেটারি ও গৃহশিক্ষক এবং তার এস্টেটের বিহারের ভাগলপুর সার্কেলের সহকারী ম্যানেজার নিযুক্ত হন। পরে কলকাতার ধর্মতলাস্থ খেলাতচন্দ্র ক্যালকাটা ইনস্টিটিউশন মেমোরিয়াল বিদ্যায়তনে আবার শিক্ষকতায় নিয়োজিত হন। এদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে ১৯২৩ থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত যুক্ত ছিলেন বিভূতিভূষণ। এরপর যোগ দেন গোপালনগর স্কুলে। এই স্কুলেই তিনি আমৃত্যু কর্মরত ছিলেন।
বিভূতিভূষণের সাহিত্যে তার ব্যক্তিজীবনের গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। তার বিস্তৃত জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নানাভাবে তার রচনাকে প্রভাবিত ও সমৃদ্ধ করেছে। বিভূতিভূষণ তার ছাপান্ন বছরের জীবনে আটাশ বছর সাহিত্য রচনা করে কাটিয়েছেন। তিনি উপন্যাস ও ছোটগল্প উভয় জগতে বিচরণ করলেও মূলত সামাজিক উপন্যাসের মাধ্যমেই পাঠকমনের স্থায়ী আসনে থিতু হন। ১৯২১ সালে প্রবাসী পত্রিকার মাঘ সংখ্যায় উপেক্ষিতা নামক গল্প প্রকাশের মধ্য দিয়ে তার সাহিত্যিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে। পথের পাঁচালী ও অপরাজিত তার সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় উপন্যাস। সাহিত্যজগতে বিভূতিভূষণের নাম সৃষ্টি হয় ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের মাধ্যমে। ভাগলপুরে কাজ করার সময় ১৯২৫ সালে তিনি পথের পাঁচালী রচনা শুরু করেন। এই বই লেখার কাজ শেষ হয় ১৯২৮ সালে। আদি ও বর্তমান সামাজিক উত্থান-পতন ও সামাজিক কুসংস্কারেরই প্রতিচ্ছবি এই উপন্যাস। ‘পথের পাঁচালী’ তার প্রথম উপন্যাসতো বটেই প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থও। ধারাবাহিকভাবে এটি ‘বিচিত্রা’ মাসিকপত্রে বেরিয়েছিল এক বছরের বেশি সময় ধরে। এরপর অপরাজিত রচনা করেন যা পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ। উভয় উপন্যাসেই তার ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিফলন ঘটেছে।‘’পথের পাঁচালী’ বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘বইখানা দাঁড়িয়ে আছে আপন সত্যের জোরে।’ জীবনকে মোহহীনভাবে দেখার নিদারুণ সত্যকেই হয়তোবা বুঝাতে চেয়েছেন কবিগুরু তার কথাতে। আঞ্চলিক জনজীবন নির্ভর ‘ইছামতী’ উপন্যাসটিও বিভূতিভূষণের আরেকটি সেরা রচনা। এটি নদীর নামে রচিত হলেও নদীভিত্তিক নয়। মূলত এই উপন্যাসে ব্রিটিশ আমলের মধ্যভাগের একটি গ্রামীণ সমাজ ও পারিপার্শ্বিক ঘটনাপ্রবাহকে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৫১ সালে ইছামতী উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার রবীন্দ্র পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন।
বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় বিভূতিভূষণের ‘পথের পাঁচালী’, ‘অপরাজিত’ এবং ‘অশনি সংকেত’ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন এবং বিভিন্ন জায়গায় প্রশংসিত হন। ‘পথের পাঁচালী’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি অর্জন করেন। এটিই প্রথম অস্কার পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলা চলচ্চিত্র। এছাড়াও ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসটি ইংরেজি, ফরাসীসহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তিনি রচনা করে গেছেন প্রকৃতির অকৃত্রিম উপাদান ‘আরণ্যক’ উপন্যাসটি। যেখানে মানুষ খুঁজে পাবে তার আসল গন্তব্য এবং সত্যিকারের আশ্রয়ের ঠিকানা। কারণ মানুষ প্রকৃতি ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে না। প্রকৃতিই তার আসল সঙ্গী। জল যেমন যেতে চায় জলের কাছে তেমনই মানুষও যেতে চায় প্রকৃতির মাঝে। নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পায় সে। প্রকৃতি আর মানুষের মধ্যে এভাবেই তো গড়ে উঠেছে আদিম প্রেম এবং যৌথ জীবনের সংসার। ‘আরণ্যক’ উপন্যাসে মানুষ আর প্রকৃতির নিজস্ব নিঃসঙ্গতাও ফুটে উঠেছে।
মানুষের মতোই প্রকৃতিও রহস্যময় এবং বৈচিত্র্যময়। এই রহস্যময় মানুষ ও প্রকৃতিকে পৃথক স্বাধীন মাত্রা দিয়েছেন বিভূতিভূষণ। প্রকৃতির নিগূঢ় সত্তাকে উন্মোচিত করেছেন শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গিতে। তার শিল্পজগৎ প্রকৃতির বিচিত্র রূপ-রস অনুভূতির আনন্দে বিহ্বল। তিনি অধিকাংশ নিসর্গ কবিদের মতো প্রকৃতির জড়-সৌন্দর্য শুধু নয়, জৈবিক মানবজীবনকেও এঁকেছেন একই ক্যানভাসে। প্রকৃতি সম্পর্কে এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি তার একান্ত নিজস্ব মৌলিকতা। বিভূতিভূষণের কাছে কোনো নীতি, তত্ত্ব বা মূল্যবোধের কোনো বিচ্ছিন্ন অর্থ ছিল না, যদি না সেসব নীতি, তত্ত্ব বা মূল্যবোধ মানুষকে আশ্রয় দিতে না পারে। সুতরাং এ কথা বলা মোটেও অসঙ্গত নয় যে, গ্রামীণ জীবনের নীতিবোধ ও মূল্যবোধের রক্ষণশীলতা বিভূতিভূষণ সমর্থন করেননি। তিনি শ্রেণী বিদ্বেষীও নন কিংবা ব্যক্তিগতভাবে কাউকে ঘৃণার চোখেও দেখেননি। যে কারণে তার অধিকাংশ ছোটগল্পই গ্রামীণ জীবনের শান্তি ও পারস্পরিক নিশ্চিন্ততা নিয়ে বেড়ে ওঠে। তিনি নিজে বলেছেন, ‘সাহিত্য আমাদের কল্পনা ও অনুভব-বৃত্তিকে উজ্জীবিত করে।’ কলকাতার মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত বিভূতি রচনাবলী দ্বাদশ খন্ডে ‘বিভূতিভূষণকে যেমন দেখেছি’ শিরোনামের একটি লেখা লিখেছিলেন অন্নদাশঙ্কর রায়। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘এমন প্রকৃতি-পাগল সাহিত্যিক বাংলা সাহিত্যে বিরল। প্রকৃৃতিকে চোখে দেখে ভালো লাগে না কার? কিন্তু তাকে ভালোবেসে তার গভীরে অবগাহন করা অন্য জিনিস।’ বিভূতিভূষণ ছিলেন এমনই প্রকৃতিপ্রেমী সাহিত্যিক। তিনি তার স্বল্প জীবনে অনেকগুলো গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, উপন্যাস: পথের পাঁচালি, অপরাজিত, অশনি সংকেত, দৃষ্টিপ্রদীপ, আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল, বিপিনের সংসার, দুই বাড়ি, অনুবর্তন, দেবযান, কেদার রাজা, অথৈজল, ইছামতি, দম্পতি প্রভৃতি। গল্প-সংকলন: মেঘমল্লার, মৌরীফুল, যাত্রাদল, জন্ম ও মৃত্যু, কিন্নর দল, বেণীগির ফুলবাড়ি, নবাগত, তালনবমী উপলখন্ড, বিধুমাস্টার, মুখোশ ও মুখশ্রী, সুলোচনা প্রভৃতি। কিশোরপাঠ্য: চাঁদের পাহাড়, মরণের ডঙ্কা বাজে’, মিসমিদের কবচ, হীরা মাণিক জ্বলে, সুন্দরবনের সাত বৎসর প্রভৃতি। ভ্রমণকাহিনী ও দিনলিপি: অভিযাত্রিক, স্মৃতির রেখা, তৃণাঙ্কুর, ঊর্মিমুখর, বনে পাহাড়ে, হে অরণ্য কথা কও প্রভৃতি। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি বিভূতিভূষণ সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেন। তিনি ‘চিত্রলেখা’ নামে একটি সিনেমা পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি ‘দীপক’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
বিভূতিভূষণের নিজস্ব ধরনের গদ্যে আবৃত ভাষাভঙ্গি ও এর অন্তর্নিহিত কারুকুশলতা গুণে তার কথাসাহিত্য, দিনলিপি, পত্রাদি এবং ভ্রমণকাহিনীগুলো পাঠককে বারবার মোহিত করে। সে কারণেই তার লেখায় বারবার ভেসে ওঠে এমন এক জগতের আহ্বান, যা লুকিয়ে রয়েছে তার মনের গহিনে, কল্পলোকের ভুবন হয়ে। নিত্যদিনের একঘেয়ে বাস্তবতার মাঝেও প্রকৃতি ও মানুষের মেলবন্ধনের সঙ্গে বিগত দিনের স্মৃতিকাতরতার যে অনবদ্য সমাহার, বিভূতিভূষণের লেখনীতে তা বারবার মূর্তময় হয়ে ওঠে। তাই তিনি সমকালে এবং উত্তরকালেও পাঠকনন্দিত, আপন মহিমায় ভাস্বর। ব্যক্তি জীবনে তিনি অনেকটাই নিভৃত যাপন করতেন। তাই তাকে অনেকেই নিভৃতচারী কথাশিল্পী হিসেবেও অভিহিত করতেন। বলতে গেলে অনেকটাই নিভৃতে ১৯৫০ সালের ১ নভেম্বর, ঝাড়খন্ডের ঘাটশিলায় তাঁর নিজের বাড়ি ‘গৌরীকুঞ্জ’তে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মৃত্যুবরণ করেন। বাংলা গদ্য সাহিত্যে তিনি তাঁর সৃষ্টিকর্মে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।

x