ঈদের ছুটিতে দুদিন সরবরাহ বন্ধ থাকার পর ডিপো থেকে স্বাভাবিক হারে জ্বালানি তেল সরবরাহের দাবি করা হলেও চট্টগ্রামসহ সারাদেশে অকটেন ও পেট্রোলের সংকট কাটছে না। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কোনো সংকট নেই বলে দফায় দফায় আশ্বস্ত করলেও পাম্পগুলোতে তেল মিলছে না। গতকালও নগরীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ‘তেল নেই’, ‘অকটেন নেই’ নোটিশ ঝুলতে দেখা গেছে। পাম্প মালিকেরা বলছেন, বিপিসি থেকে সরবরাহ না দেয়ায় তাদের পক্ষে তেল বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
চট্টগ্রামে জ্বালানি তেলের সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। পুরো শহর ঘুরেও এক লিটার পেট্রোল কিংবা অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকা থেকে ঈদ করতে গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রামে আসা অনেকেই বিপদে পড়ে গেছেন। তারা গাড়ি নিয়ে ফেরার মতো অকটেনের সংস্থান করতে পারছেন না। নানাভাবে চেষ্টা করেও পেট্রোল–অকটেনের সংস্থান করতে না পেরে দিশেহারা অনেকেই। অনেকেই গাড়ির ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন। কেউ কেউ ব্যবহার সীমিত করে দিয়েছেন। পাম্প মালিকদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে সরবরাহ সীমিত বা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
পেট্রোল পাম্প মালিকেরা বলছেন, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মার্চ মাসে যে পাম্প যে পরিমাণ পেট্রোল অকটেন নিয়েছিল ২০২৬ সালের মার্চের জন্য সে পরিমাণ তেলই বিপণন কোম্পানিগুলো দিচ্ছে। এতে করে চলতি মার্চ মাসে যে পরিমাণ পেট্রোল অকটেন পদ্মা মেঘনা বা যমুনা অয়েল কোম্পানি থেকে পাম্পগুলো সরবরাহ পেয়েছে সেগুলো ঈদের আগেই শেষ হয়ে গেছে।

একজন পাম্প মালিক গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, ২০ মার্চের পর আর কোনো তেল সরবরাহ দেয়া হয়নি। এতে করে আমরা পাম্প বন্ধ করে রেখেছি। তবে বিপিসি বলেছে, তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর কাছে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে। ডিপোগুলোতেও মজুদ সন্তোষজনক। বিপিসি যথাযথ নিয়ম কানুন মেনেই চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছে।
পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির একজন শীর্ষ নেতা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শুরু থেকেই তেল সরবরাহ কম দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রোলের ক্ষেত্রে রেশনিং চলছে। ডিজেল নিয়ে তেমন কোনো সংকট নেই বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, গত বছরের মার্চ মাসের সাথে হিসেব করে জ্বালানি তেল সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এবার হুড়োহুড়িতে চাহিদা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। গত বছরের মার্চের হিসেবে যে পেট্রোল অকটেন দেয়া হয়েছে তা মাসের অর্ধেকেই শেষ হয়ে গেছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, তার দুইটি পেট্রোল পাম্পের একটিতে ১৬ মার্চ এবং অপরটিতে ২০ মার্চের পরে কোনো পেট্রোল অকটেন সরবরাহ দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, অথচ গত বছরের তুলনায় গাড়ি বেড়েছে, চাহিদা বেড়েছে। এসব বিবেচনা না নেয়ায় সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, ঈদের ছুটিতেও নির্দিষ্ট দিন ছাড়া ডিপোগুলো খোলা ছিল এবং পাম্প, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও এজেন্টদের নিয়ম অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হয়েছে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যানবাহন মালিকদের মধ্যে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা তৈরি হওয়ায় বাজারে কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) একজন কর্মকর্তা বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি নেই। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের কারণে কিছু পাম্পে সাময়িক সংকট দেখা দিতে পারে। তিনি মার্চ মাসে প্রচুর জ্বালানি তেল দেশে এসেছে বলে উল্লেখ করে বলেন, দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
বিপিসি এবং বিপণন কোম্পানিগুলো তেলের সংকট নেই বলে প্রচার করলেও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন। পাম্পে তেল না পাওয়া এবং দীর্ঘ লাইনের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ চালকরা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় না এলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। জ্বালানি তেল নিয়ে কেউ বিশেষ কোনো ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে কিনা তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।











