বিপন্ন পৃথিবীর ভয়াল রূপ

চিত্রভাষা গ্যালারিতে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী উদ্বোধন

আজাদী ডেস্ক | শনিবার , ২ জুলাই, ২০২২ at ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ

বিপন্ন জল, মাটি, বায়ু, আগুন…গোটা পৃথিবী। এই স্লোগানকে উপজীব্য করে জলবায়ু পরিবর্তনরোধ বিষয়ক নানা মাধ্যমের শিল্পকর্মের প্রদর্শনী। চিত্রভাষা গ্যালারি ও শিল্প সংগঠন একান্ন যোগের আয়োজনে নগরীর খুলশীতে চিত্রভাষা গ্যালারিতে গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে এই প্রদর্শনী। উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাস্কর অলক রায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসাইন ও কোডেকের উন্নয়নকর্মী কমল সেনগুপ্ত। উপস্থিত ছিলেন শিল্পী জাহেদ এ চৌধুরী যুবরাজ, জাবের আহমেদ চৌধুরী, উম্মে তানিয়া, কাউসার আহমেদ, সোহরাব জাহান, হ্লু বাইশু চৌধুরী, পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ফিঙ্গারের অন্যতম স্বত্বাধিকারী রিতু পারভী, বিস্তার আর্ট কমপ্লেক্সের কর্ণধার আলম খোরশেদ প্রমুখ।

প্রদর্শনীতে ১১ জন শিল্পীর নানা মাধ্যমের শিল্পসৃষ্টি প্রদর্শিত হচ্ছে। শিল্পীরা হলেন জয়া বড়ুয়া, ফজলে রাব্বি, নুসরাত শাওন, রনি জাবালি, রাজীব দত্ত, পংকজ চৌধুরী রনি, আসমা বীথি, রাসেল চৌধুরী, তানবীর সারওয়ার রানা, দেবাশীষ মজুমদার ও মইনুল আলম।

আয়োজকরা জানান, যে সময়টাতে আমরা এই প্রদর্শনীর প্রস্তুতিমূলক কাজ গুছিয়ে নিচ্ছিলাম তখন বাংলাদেশের বড় একটি অংশ জলে নিমজ্জিত ছিল। প্রতি বছর ভয়াবহ বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আগের সকল স্বাভাবিকতা হারিয়ে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের এক নির্মম দলিল। গত দুই দশক ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকিগুলো পৃথিবীব্যাপী আলোচনার বিষয়। বৈশ্বিক জলবায়ুর এই ঋণাত্মক পরিবর্তনে দায়ী দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তলানীতে হলেও এর প্রভাবের একটা বড় অংশ ভোগ করতে হচ্ছে বা হবে বাংলাদেশকে। মানুষ তথা আমাদের ভুলের মাশুল দিতে গিয়ে প্রকৃতির যে করাল দশা, জলবায়ু পরিবর্তনের যে শোচনীয় ফলাফল বা প্রভাব, তা-ই আমরা ধরতে চেয়েছি এই শৈল্পিক প্রকাশের মধ্য দিয়ে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয় মাল্টিডিসিপ্লিনারি আর্ট ক্যাম্প। সেই ক্যাম্পের শিল্পকর্মগুলোকে এখানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভাস্কর অলক রায় বলেন, বাস্তবায়নের কাজটা মূলত রাজনৈতিক কর্মীদের। শিল্পীরা কেবল ভাবাতে পারে। আমরা পরিবেশ সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক মহলে রাজনীতিবিদদের উপস্থিতি দেখি। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তাদের দেখা মেলে না। যদি সত্যিই পরিবর্তন চাই তাহলে মাঠে নামতে হবে।

ড. মোহাম্মদ কামাল হোসাইন বলেন, আমি কক্সবাজারের মানুষ। আমাদের ইকো সিস্টেম যেভাবে বদলে যাচ্ছে তা নিয়ে আমরা কথা বলছি। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে রাজনৈতিক আবহের কারণে আমাদের পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না। কমল সেন বলেন, আগে জেলেরা তাদের দীর্ঘ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আবহাওয়া পরিবর্তন নিয়ে পূর্বাভাস বলতেন। কিন্তু তারাও বর্তমানে পরিবেশের এই বদল নিতে পারছেন না। আমাদের পৃথিবীর বর্তমান অবস্থা আরো বেগতিক হবে, যদি আমরা এসবে নজর না দিই।

একান্ন যোগের পক্ষ থেকে পঙ্কজ চৌধুরী রনি বলেন, প্রদর্শনীটি করার আগে আমরা কক্সবাজারে আর্ট ক্যাম্প করি। সেখানে আর্ট ফর্মগুলো প্রদর্শন করার বড় জায়গা ছিল। কিন্তু জায়গার স্বল্পতার কারণে এখানে আমরা যতদূর পেরেছি সেখানকার সামগ্রী এনেছি, সে আবেশকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সব আনা সম্ভব হয়নি।

গ্রিন ফিঙ্গারের রিতু পারভী বলেন, এ ক্রান্তিলগ্নে আমরা প্রত্যেকে যদি পরিবেশকর্মী হয়ে না উঠি তাহলে পৃথিবীকে বাঁচানো সম্ভব নয়।

প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিন আজ সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে শিল্পী আড্ডা। এতে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীগণ কথা বলবেন। আড্ডা সঞ্চালনা করবেন চারুকলার শিক্ষক জাহেদ এ চৌধুরী যুবরাজ। প্রদর্শনী চলবে আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।