জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে বিবেচিত চট্টগ্রাম–১৬ বাঁশখালী আসনটি। এবার এ আসনে ৭ জন প্রার্থী থাকলেও প্রধান তিন প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি, বিএনপির এক বিদ্রোহী ও জামায়াতের প্রার্থী প্রচার–প্রচারণায় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ভোটারদের আগ্রহের মূল কেন্দ্রেও রয়েছেন এ তিনজন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেকোনো কিছুর বিনিময়ে এবার বিজয় পেতে মরিয়া জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম। তাদের সুনির্দিষ্ট ভোট ব্যাংকের বাইরে গিয়ে সংখ্যালঘু ভোটারদের নিজেদের কাতারে আনতে প্রতিনিয়ত প্রচার–প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক আগে থেকে তাদের করে রাখা কেন্দ্র কমিটির নেতাকর্মীদের সাথে নতুন নতুন কর্মপরিকল্পনা শেয়ার করে দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জ্বীবিত করে যাচ্ছে।
সাতকানিয়ায় সমাবেশে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান যখন দাঁড়িপাল্লা হাতে তুলে দেন তখন মাওলানা জহিরুল ইসলাম এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জীবনের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে হলেও মুহতরাম আমীরের তুলে দেয়া এই আমানতের মর্যাদা রক্ষা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
এদিকে বিগত দিনে বিএনপি পাঁচ বার বাঁশখালী আসন থেকে নির্বাচিত হলেও এবার নির্বাচনে বিএনপির বহিষ্কৃত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং গন্ডামারার চেয়ারম্যান মো. লেয়াকত আলী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিএনপির পথের কাঁটাতে পরিণত হয়েছেন। তবে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কয়েকজন বিশ্বস্ত লোক বিএনপির সভা সমাবেশে অংশ নেওয়াতে হিসাব পাল্টাতে শুরু করেছে। বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর পুত্র চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা নিজের মত করে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রয়ারি নির্বাচনে বিএনপির টিকিটে এমপি নির্বাচিত হন চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। এরপর ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রয়ারি নির্বাচনে জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সপ্তম জাতীয় সংসদ ১৯৯৬ সালে ১২ জুনের নির্বাচনে জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বিএনপির প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়। এরপর ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাফরুল ইসলাম চৌধুরী এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো বিএনপি প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর থেকে এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। দীর্ঘদিন পর এ আসনটি আবারো বিজয় পেতে বিএনপি কাজ করে গেলে তাদের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বিগত দিনে বাঁশখালীতে জামায়াত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলেও কখনও বিজয় পায়নি তারা। তবে ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হয়েছিল জামায়াত প্রার্থীরা। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি জামায়াত প্রার্থী নিজের অস্তিত্ব ও মান সম্মানের লড়াই হিসাবে নিয়ে সেভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে।
আগামী সংসদ নির্বাচনে বাঁশখালী আসনে ৭ প্রার্থী যথাক্রমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপির প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা (ধানের শীষ প্রতীক), বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সহ সেক্রেটারি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক), স্বতন্ত্র প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও গন্ডামারার পদত্যাগী চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লেয়াকত আলী (ফুটবল প্রতীক), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ প্রার্থী আবদুল মালেক আশরাফী (চেয়ার প্রতীক), গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আরিফুল হক তায়েফ (ট্রাক প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার (হাতপাখা প্রতীক), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী এহছানুল হক (হারিকেল প্রতীক) নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, আগামীকাল শুক্রবার ১১২টি ভোটকেন্দ্রের ৭২০টি কক্ষের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলম বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পাদনের লক্ষ্যে সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি রেখেছে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে সাথে সাথে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।












