আজ ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। তবে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাই অংশে সামপ্রতিক কয়েকটি দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বড়তাকিয়া, মিঠাছড়া ও পূর্ব দুর্গাপুর বাইপাস এলাকায় বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল, অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ইউ–টার্ন নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। অনেক স্থানে ডিভাইডারের যথাযথ চিহ্নও নেই বলে জানিয়েছেন চালকেরা।
এক জরিপে দেখা গেছে, গত এক বছরে এই সড়কে নিহতের সংখ্যা অন্তত অর্ধশত। গত ২০ অক্টোবর বড়তাকিয়া বাইপাস এলাকায় দ্রুতগতির প্রোবক্স গাড়ির ধাক্কায় মো. সাদেক মিয়া (৫৯) নামে এক ব্যাটারি রিকশাচালক নিহত হন। এর আগে ১৭ অক্টোবর সোনাপাহাড় এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের পেছনে পিকআপের ধাক্কায় পিকআপচালক মো. রিয়াজ নিহত হন। পৃথক ঘটনায় নিহত হন সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ হুমায়ুুন (২৬)।
মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে থ্রি–হুইলারের চলাচলকে দায়ী করছেন স্থানীয় চালকদের কেউ কেউ। তাদের অভিযোগ, সিএনজি টেক্সির পাশাপাশি ব্যাটারি রিকশা ও বটবটিও মহাসড়কে বাস–ট্রাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলাচল করছে।
আন্তজেলা বাসচালক রফিকুল ইসলাম (৫৪) বলেন, এই সড়কে দুই বছর আগেও গাড়ি চালিয়ে যেটুকু স্বস্তি ছিল, এখন তা নেই। বাসের গতি থাকলেও বিভিন্ন ছোট রাস্তা থেকে হঠাৎ সিএনজি টেক্সি মহাসড়কে উঠে পড়ে। কখনো কখনো আমাদের সঙ্গে পাল্লা দেয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
ট্রাকচালক ইউসুফ মিয়া (৪২) বলেন, সিএনজি টেক্সির পাশাপাশি হাটবাজারে ঢোকার মুখে ডিভাইডারের চিহ্ন নিয়েও সমস্যা রয়েছে। হালকা কুয়াশা হলেই অনেক জায়গায় এসব চিহ্ন দেখা যায় না। বিশেষ করে উত্তর দিক থেকে বারইয়ারহাট বাজারে ঢোকার সময় অনেক বাস–ট্রাক ধাক্কা খেয়েছে। দক্ষিণ দিক থেকে মীরসরাই সদরে ঢোকার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। এসব স্থানে স্পষ্ট নির্দেশক চিহ্ন প্রয়োজন। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত ইউ–টার্ন এবং ছোট ও ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতিও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন স্থানীয়দের অনেকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুজ্জামান বলেন, মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থানে বেপরোয়া গতি ও নিয়মশৃক্সখলা না মানার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে আমরা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আইন প্রয়োগের তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। থ্রি–হুইলারের বিষয়ে আগামী দিনে জিরো টলারেন্সের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মীরসরাই কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম বলেন, আমরা সবাই নিরাপদ সড়ক চাই, আবার নিয়মও ভাঙি। মহাসড়কে থ্রি–হুইলার, সিএনজি, বটবটি ও রিকশার মতো যানবাহন এখনো চলাচল করতে দেখি। সরকার এগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও সবাই সচেতন না হলে সড়কে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, সড়কসহ সব ক্ষেত্রে শৃক্সখলা ফিরিয়ে আনতে আগামী দিনে মহাসড়কেও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সবার মধ্যে শৃক্সখলা ও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।










