বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমান্ড গঠিত হয়

আজাদী ডেস্ক | শনিবার , ৩ ডিসেম্বর, ২০২২ at ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ

একাত্তরের এই দিনে গঠিত হয় বাংলাদেশভারত যৌথ কমান্ড। এ দিন ভারতের কয়েকটি শহরে পাকিস্তান বিমানবাহিনী হামলা চালালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করে। ভারতের অমৃতসর, পাঠানকোট, শ্রীনগর, যোধপুর, আম্বালা, আগ্রা, অবন্তীপুরে একযোগে হামলা চালানো হলে ভারতও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। গঠিত হয় বাংলাদেশভারত যৌথ কমান্ড। এদিন থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের সহযোগিতা বাড়তে থাকে।

 

ভারতের মিত্রবাহিনী আর মুক্তিযোদ্ধাদের মিলিত প্রতিরোধের মুখে একে একে পরাস্ত হতে থাকে পাকিস্তানি হানাদাররা। অসম সাহসী ও অকুতোভয় মুক্তিবাহিনীর মনোবল আর প্রতিজ্ঞা বিজয় অর্জনের পথে সব বাধা অতিক্রম করে এগোতে থাকে দুর্দমনীয় গতিতে। পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তায় যুদ্ধে লিপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধদের ঝুলিতে জমতে থাকে একেকটি সাফল্যের গল্প। ছাত্রশিক্ষক, শিল্পীলেখক, মজুরকৃষক, সেনা সবাই রুখে দাঁড়িয়েছিলেন একাত্তরের দখলদার পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে।

মেজর আইনউদ্দীনের নেতৃত্বে এদিন কুমিল্লার মিয়াবাজার দখল করে নেয় মুক্তিবাহিনী। নোয়াখালীতে সুবেদার মেজর লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা সোনাইমুড়ি মুক্তি করেন। এদিনেই বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সার্থক হামলায় নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও চট্টগ্রামের ফুয়েল পাম্প মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা এ সময় একের পর এক যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত করে পাকিস্তানি সেনাদের কোণঠাসা করে ফেলে। আখাউড়ার আজমপুর স্টেশনে দুপক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে দিনভর যুদ্ধ চালিয়ে যায়। সিলেটের ভানুগাছায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে ১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা নিহত হন। নোয়াখালীতে সুবেদার মেজর লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল সোনাইমুড়ি মুক্ত করে।

এরপর তারা চৌমুহনীতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় পাকিস্তান বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়। মেজর জাফর ইমামের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী মাইজদিতে পাকিস্তান বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়। রংপুরের পলাশবাড়ীতে ১২ জন পাকিস্তানি সেনা আত্মসমপর্ণ করে। সাতক্ষীরা থেকে পিছু হটে দৌলতপুরের দিকে যায় পাকিস্তানি সেনারা। পাকিস্তান এয়ারলাইন্স পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে সব ফ্লাইট বাতিল করে। এদিন ১১নং সেক্টরের মুক্তিবাহিনী কামালপুর বিওপি আক্রমণের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ রকম ছোটবড় সফল অপারেশন বাঙালির বিজয়ের সম্ভাবনাকে আরও সুনিশ্চিত করে তোলে।