বাংলাদেশের মতো সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল ঘটানোর চেষ্টা করছে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস–এমন অভিযোগ তুলেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তার দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কিংবা ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আপত্তি তোলা কংগ্রেসের মূল উদ্দেশ্য নয়; বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করাই দলটির লক্ষ্য। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) উত্তর প্রদেশের লখনউয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটাতে বাংলাদেশে সহিংসতার যে মডেল দেখা গেছে, কংগ্রেসও সেই পথ অনুসরণ করতে চায়। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অভিযোগ, কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালে নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের ‘হাতের পুতুলে’ পরিণত করার চেষ্টা করেছিল। ১৯৯৩ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই বছর নির্বাচন কমিশনে রাতারাতি পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতির কাছে নির্বাচন কমিশনার নবীন চাওলাকে অপসারণের সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু পরে কংগ্রেস সরকার নবীন চাওলাকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদে উন্নীত করে।
রাজনাথ সিংয়ের দাবি, ১৯৯৩ সালের আগে ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ভোটার কার্ডের ব্যবস্থা ছিল না। ভোটার পরিচয়পত্র চালুর পর থেকে কংগ্রেস আর এককভাবে সরকার গঠন করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমের বিরোধিতা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রতিবাদ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাজনাথ। তার অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আপত্তি তোলার আড়ালে স্বাধীনভাবে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে দলটি। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও সতর্ক করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতন্ত্র কাউকে সহিংসতার আশ্রয় নেওয়ার অধিকার দেয় না। রাহুলকে কটাক্ষ করে রাজনাথ বলেন, তিনি বাধা সৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতি করছেন।












