বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে গুণগত অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রয়োজন

চিটাগাং চেম্বারে কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত মেঘনা থেকে পানি সরবরাহ লাইন চট্টগ্রাম শহর পর্যন্ত সম্প্রসারণের আহ্বান

| শুক্রবার , ১৭ মে, ২০২৪ at ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ংসিক গতকাল শনিবার চিটাগাং চেম্বার পরিচালকমণ্ডলীর সাথে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ চেম্বার কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় চেম্বার প্রেসিডেন্ট ওমর হাজ্জাজ, সহসভাপতি রাইসা মাহবুব, চেম্বার পরিচালকদের মধ্যে অঞ্জন শেখর দাশ, মাহফুজুল হক শাহ, আখতার উদ্দিন মাহমুদ ও দূতাবাসের কনসুল কিম জেয়ং কি, চট্টগ্রামে কোরিয়ান এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জিন হুক পিক, কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান তাইয়ং এর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বার পরিচালকবৃন্দ জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), বেনাজির চৌধুরী নিশান, আলমগীর পারভেজ, মাহবুবুল হক মিয়া ও মো. রেজাউল করিম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

কোরিয়ান রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ংসিক বলেন, কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক। কোরিয়ার ৫ম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হচ্ছে বাংলাদেশ। এখানকার ম্যানুফ্যাকচারার, অটোমোবাইল, মোবাইল ও হোম ইলেক্ট্রনিঙ খাতে বিনিয়োগ রয়েছে কোরিয়ান কোম্পানির। এছাড়াও বাংলাদেশের বড় বড় প্রকল্পে দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে কোরিয়ান কোম্পানিগুলো। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তোরণ করবে। তাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে গুণগত অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রয়োজন। ম্যানুফ্যাকচারিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বে পোশাক শিল্পের ৭৫ শতাংশ কটনবেইজড পোশাক রপ্তানি হয়। কিন্তু বিশ্বব্যাপী ম্যান মেইড ফাইবার পোশাকের কদর রয়েছে। তিনি বাংলাদেশে ব্লু ইকোনমি, ট্যুরিজম, এগ্রো ও ফুড প্রসেসিং সেক্টরে অনেক উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে কোরিয়ার। একই সাথে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের কোরিয়ান কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কাঁচামাল আমদানির উপর উচ্চ ট্যারিফ, ভিসা জটিলতা এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স বিলম্বজনিত সমস্যা একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। বিনিয়োগের এসব বাধাসমূহ সুরাহার জন্য চেম্বারের মাধ্যমে সরকারের সহায়তা কামনা করেন।

চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের সাথে দক্ষিণ কোরিয়ার ভৌগোলিক দূরত্ব সত্ত্বেও দু’দেশের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আজকের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে কোরিয়ার অবদান। তিনি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্লু ইকোনমি, শিপ বিল্ডিং ও শিপিং খাতে কোরিয়ান বিনিয়োগের আহ্বান জানান। একই সাথে বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে কোরিয়ার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন মেঘনা নদী থেকে পানি সরবরাহ লাইন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড তথা চট্টগ্রাম শহর পর্যন্ত সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে ইউজিসি
পরবর্তী নিবন্ধজোভান-আইশার প্রেমে বাঁধা পরিবার!