ফটিকছড়িতে অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় কর্মশালা

হালদাকে ইউনেস্কোর‘ম্যান অ্যান্ড দ্য বায়োস্ফিয়ার’ সাইট ঘোষণা

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি | বুধবার , ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীকে ইউনেস্কোর ‘ম্যান অ্যান্ড দ্য বায়োস্ফিয়ার’ (গঅই) সাইট হিসেবে ঘোষণার লক্ষ্যে ফটিকছড়িতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে এক বিশেষ মতবিনিময় কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার হাজারীখীল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের হলরুমে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হালদা গবেষক এবং বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর মো. মনজুরুল কিবরিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

প্রধান অতিথি বলেন, হালদা নদী থেকে বছরে দেশের প্রায় ৮০০ কোটি টাকার পোনা উৎপাদন হয়। এই নদী শুধু মানিকছড়ি বা ফটিকছড়ি নয়, বরং সমগ্র চট্টগ্রাম নগরীকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৮ কোটি লিটার পানি উত্তোলন করে চট্টগ্রাম শহরের মানুষের পানির চাহিদা মেটানো হয়। এছাড়া এই নদীর আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, এর উৎপত্তি এবং সমাপ্তি আমাদের দেশেই। তাই আমরা গর্ব করে বলতে পারি হালদা আমাদের নদী।

তিনি আরও বলেন, হালদা নদীর উজান মানিকছড়ি ও ফটিকছড়ি অঞ্চলের খালগুলো যদি আমরা ভালো রাখতে না পারি, তাহলে এই নদীতে মা মাছ আর ডিম ছাড়বে না। অতএব, যেকোনো মূল্যে এই নদীকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

কর্মশালায় অংশ নিয়ে স্থানীয় বক্তারা ফটিকছড়ি অঞ্চলের অবহেলার চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, হালদার মূল স্থান ফটিকছড়ি ও মানিকছড়ি হলেও এর সুফল বা পোনা উৎপাদন হচ্ছে হাটহাজারীতে। ফটিকছড়ি নদীটিকে আগলে রাখলেও দিনশেষে ফটিকছড়িবাসীর কী লাভ হচ্ছে?” তারা হালদার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পাশাপাশি ফটিকছড়ির স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার দাবি জানান। বক্তব্য রাখেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক সায়েদ মোহাম্মদ রিয়াদ, কৃষি অফিসার আবু সালেক, প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি অফিসার ডা. মো. আবদুল মমিন, হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী, রেঞ্জ অফিসার আতিকুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন শাহিন, সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওসমান হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান এবং সাংবাদিক মোহাম্মদ জিপন উদ্দিন প্রমুখ। বক্তারা হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি অর্জনে স্থানীয় প্রশাসন, গবেষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দাবি জানান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিবিইউএফটি’র ফিন্যান্স কমিটির সভা
পরবর্তী নিবন্ধকাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়ের কাছে কখনো নত হননি