কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা মোরারপাড়া এলাকায় এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক নির্যাতনের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে মোরারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাজল রেখা (২০) ওই এলাকার রাজিবুল ইসলাম রানার স্ত্রী। তিনি পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোঁয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
নিহতের বাবা জসিম উদ্দিন জানান, শুক্রবার তিনি মেয়ের জন্য বিভিন্ন উপহার নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। পরে দুপুরে সহকর্মী চৌকিদার ইলিয়াস তাকে ফোনে মেয়ের মৃত্যুর খবর জানান। তার দাবি, বিয়ের পর থেকে মেয়েকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এসব বিষয়ে কাজল রেখা একাধিকবার তাকে জানিয়েছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারধর করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বলেও জানান।
গত ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর কাজল রেখার সঙ্গে রাজিবুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের ছয় মাস না পেরোতেই শ্বশুরবাড়ি থেকে মেয়ের মরদেহ নিতে হয়েছে পরিবারকে। স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কঙবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক কলহের ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা–তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পেকুয়া থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











