পিলারের গোড়ার মাটি সরে গিয়ে দেবে গেছে সেতু

সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন মানিকপুরসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ বিপাকে

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া | শনিবার , ৪ নভেম্বর, ২০২৩ at ৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় হামুন এর ভয়াবহ তাণ্ডব, সেইসাথে ভারি বর্ষণে গোড়ার মাটি সরে গিয়ে দেবে যায় কক্সবাজারের চকরিয়ার কাকারামানিকপুর সড়কের ফাইতং খালের ওপর নির্মিত পাকা সেতুটি। এই অবস্থায় গত ১০ দিন আগে থেকে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে অন্তত ২০ হাজার মানুষ। সেতুটি দিয়ে চলাচল একেবারে বন্ধ থাকায় জমিতে ফলানো সবজিসহ উৎপাদিত নানা পণ্য অন্যত্র নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় ব্যাপকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। এছাড়াও চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

সরেজমিন দেখা গেছে, গত ২৪ অক্টোবর রাতে ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবে সৃষ্ট ভারি বর্ষণে ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের পাকা সেতুটির মাঝখানের দুটি পিলারের গোড়ার মাটি সরে গিয়ে দেবে যায়। একইসাথে বিলিন হয়ে যায় সংযোগ সড়কটির প্রায় ৬০ ফুট অংশের মাটিসহ ম্যাকাডম। তখন থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সেতুসহ সড়কটি দিয়ে যাতায়াত।

এই অবস্থায় সুরাজপুরমানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিমের উদ্যোগে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেবে যাওয়া পাকা সেতুর পাশ দিয়ে অস্থায়ী বিকল্প চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করার কাজ চলমান রয়েছে। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম দৈনিক আজাদীকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় হামুনের তাণ্ডবসহ ভারি বর্ষণে গোড়ার মাটি সরে গিয়ে দেবে যাওয়া পাকা সেতুটির পাশ দিয়ে বিকল্প সড়ক তৈরি করা হচ্ছে। ফাইতং খালের পানির প্রবাহ ঠিক রেখেই লোহার এঙ্গেল, তক্তা ও গাছবাঁশ দিয়ে এই বিকল্প সড়কটি তৈরির কাজ কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছি। এরপর বিকল্প সড়ক দিয়ে হালকা যানবাহনও চলাচল করতে পারবে। কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী ভুক্তভোগী মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, এই সেতুটির ওপরই নির্ভরশীল মানিকপুরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের। কিন্তু গত ১০ দিন আগে থেকেই একেবারে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে পাকা সেতুটি দেবে যাওয়ায়। তাই বিকল্প বা অস্থায়ী সড়ক নয়, নতুন করে স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের দাবি উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। ভুক্তভোগী একাধিক কৃষক জানান, ফাইতং খালের ওপর নির্মিত এই পাকা সেতুটি দিয়ে মানিকপুর এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলা লামার মানুষ সরাসরি চকরিয়ার সঙ্গে যাতায়াত করে আসছিলেন। মানিকপুর এলাকার লোকজন কৃষিকাজের ওপরই নির্ভরশীল। কিন্তু সেতুটি দেবে যাওয়ার কারণে প্রান্তিক কৃষক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ তাদের উৎপাদিত সবজিসহ রকমারি ফসল চকরিয়া সদরে নিতে পারছেন না সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায়।

দেবে যাওয়া সেতুটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান, এলজিইডি চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সাফায়াত ফারুক চৌধুরী, সুরাজপুরমানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিমসহ স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে এলজিইডি চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সাফায়াত ফারুক চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, দেবে যাওয়া সেতুটি অপসারণপূর্বক নতুন করে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হবে। এজন্য সরজমিন পরিদর্শনসহ প্রয়োজনীয় সমীক্ষা করে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এরপর ঢাকায় প্রধান প্রকৌশলীর কাছে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়। তিনি বলেন, নতুন করে সেতু নির্মাণকাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প পন্থায় যাতে হালকা যান ও জনচলাচল স্বাভাবিক রাখা যায় সেজন্য অস্থায়ী সেতুসহ সড়ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসরকার সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করেছে
পরবর্তী নিবন্ধআন্দোলনের নামে যারা অগ্নিসন্ত্রাস করছে তাদের রুখে দিতে হবে