পাইকারিতে কমেছে ভোজ্যতেলের দাম

সাপ্লাই স্বাভাবিক তাই দাম নিম্নমুখী

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১৪ মে, ২০২২ at ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ

দেশের বাজারে সম্প্রতি ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধিতে রেকর্ড গড়েছে। পাম তেলের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া রপ্তানি নিষিদ্ধ এবং চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রভাবে ভোজ্যতেলের বাজার আরো চড়া হতে থাকে। এসব সংকটের কারণে ভেঙ্গে পড়ে ভোজ্যতেলের সাপ্লাইচেইন। তবে গত দুদিন ধরে পাম ও সয়াবিনের বাজার কিছুটা নিম্নমুখী। পাম তেলের দাম মণে কমেছে ৩০০ টাকা এবং সয়াবিনের দাম কমেছে মণে ২০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার পরিবর্তে মালয়েশিয়া থেকে পাম তেল আসছে। এছাড়া সয়াবিনের সাপ্লাইও মোটামুটি স্বাভাবিক আছে। তাই দাম নিম্নমুখী।

গতকাল খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুদিন আগে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) পাম তেল বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৪০০ টাকায়। বর্তমানে সেটি ৩০০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ১০০ টাকায়। এছাড়া একই সময়ে প্রতি মণ সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছিল ৭ হাজার ৫০ টাকায়। বর্তমানে ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৮৫০ টাকায়।

এদিকে কাস্টমস থেকে পাওয়া তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১১ লাখ ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। দেশে ভোজ্যতেলের মাসিক চাহিদা দেড় থেকে পৌনে দুই লাখ টন। মাসভিত্তিক গড় ব্যবহার বিবেচনায় নিয়ে মার্চ পর্যন্ত পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টন ভোজ্যতেল ব্যবহার হওয়ার কথা। সেই হিসেবে বর্তমানে তেলের কোনো ধরণের সংকট নেই বলছেন তেল ব্যবসায়ীরা।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী মো. আবু বক্কর দৈনিক আজাদীকে বলেন, ভোজ্যতেলের বাজার বর্তমানে নিম্নমুখী। আরো কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খুচরা পর্যায়ে অভিযানের জেরে অনেকে তেল কিনছে না। তাছাড়া আগামী জুন-জুলাই মাসটা পাম তেল উৎপাদনের মৌসুম। ইন্দোনেশিয়া তাদের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে বিশেষ করে পাম তেলের বাজার অনেক কমে যাবে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসেন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ে আসলে তেমন কিছু আর বলার নেই। পাইকারিতে এখন দাম কমলেও সেই সুফল কিন্তু এই মুহূর্তে ভোক্তারা পাবেন না। কারণ ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থে কিন্তু ইতোমধ্যে বাড়তি দাম নির্ধারণ করে ফেলেছেন। আর আমাদের দেশে এটাই চিরাচারিত নিয়ম হয়ে গেছে, পাইকারিতে দাম বাড়ার সাথে সাথে খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেয়। আবার পাইকারি দাম কমলেও সেটি প্রভাব পড়ে না। একইভাবে আন্তর্জাতিক বাজার বাড়ার সাথে সাথে বেড়ে যায় পাইকারি বাজার। অথচ আন্তর্জাতিক বাজার বাড়লেও এখানে পণ্য আসতে অন্তত তিন মাস সময় লাগে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা আগের কেনা পণ্যও আন্তর্জাতিক বাজার বাড়ার অজুহাতে বাড়িয়ে দেয়। এটি আমরা বারবার বলে আসছি। কিন্তু সরকারের কর্তাব্যক্তিদের সেদিক ভ্রক্ষেপ নেই।