দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত বিএনপির চট্টগ্রামের নেতাকর্মীরা। উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে। এ উৎসব ও আনন্দ কেবল দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ছড়িয়ে পড়েছে পুরো চট্টগ্রামে। তাই সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তানকে বরণ করতে এবং তাঁর কথা শুনতে পুরো চট্টগ্রামবাসীই উন্মুখ হয়ে আছে, এমনটাই দাবি বিএনপি নেতাকর্মীদের। একইসঙ্গে তারেক রহমানের আগমনে চট্টগ্রামে উজ্জ্বীবিত বিএনপি’র রাজনৈতিক গতি বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ ভোটাররাও উৎসাহ পাবেন বলে মনে করেন তারা।
জানা গেছে, দীর্ঘ ২০ বছর ৭ মাস পর আজ শনিবার চট্টগ্রাম আসবেন তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপি আয়োজিত নিবাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। এ সমাবেশে ‘১০ লক্ষাধিক’ লোকের সমাগম ঘটাতে চায় দলটি। সমাবেশ উপলক্ষে পলোগ্রাউন্ডে ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৬০ ফুট প্রশস্ত মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। এ দিকে চট্টগ্রাম এসে পুরাতন সার্কিট হাউজে অবস্থিত জিয়া স্মৃতি যাদুঘর পরিদর্শন করতে পারেন তারেক রহমান। এছাড়া আগামীকাল সমাবেশে যোগ দেয়ার আগে সকালে র্যাডিসন ব্লুতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে তার।
জানা গেছে, বিএনপি’র প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামে সর্বশেষ ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে বক্তব্য রেখেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর গত ৯ জানুয়ারি তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ওই হিসেবে ১৪ বছর পর একই মাঠে দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। এছাড়া দলের প্রধান হিসেবে আজকেই প্রথম চট্টগ্রাম আসবেন তিনি। ২০০৫ সালে তার সর্বশেষ চট্টগ্রাম সফর করেন তারেক রহমান। ওইসময় তিনি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে
বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের জন্য ভোট চেয়ে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন। ওই হিসেবে দীর্ঘ ২০ বছর ৭ মাস পর চট্টগ্রামে আসবেন এবং একইসঙ্গে প্রথম বড় কোনো সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি।
১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৬০ ফুট প্রশস্ত মঞ্চ : সমাবেশ উপলক্ষে পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রস্তুত করা হচ্ছে ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৬০ ফুট প্রশস্ত মঞ্চ। গতকাল দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকেরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, সমাবেশ চলাকালে সামনে নিরাপত্তাকর্মীরা থাকবেন। এরপর নারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তার পরের অংশে সমাবেশে আসা মানুষ অবস্থান নেবেন।
এদিকে সমাবেশস্থলের আশেপাশে ২০০ মাইক ও ১০টি এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হবে, যাতে মাঠের বাইরে থাকা লোকজন তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে পারেন।
সিএমপি’র নির্দেশনা : সমাবেশ উপলক্ষে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সিএমপি। সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তিতে পলোগ্রাউন্ড মাঠ চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জনসমাবেশ উপলক্ষে ২৪–২৫ চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় জনশৃঙ্খলা, শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার নিমিত্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮ এই ২৯ ধারা মোতাবেক কোনো ব্যক্তির অস্ত্রশস্ত্র, তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট–পাথর প্রভৃতি বহন ও ব্যবহার, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা–বিরোধী কোনো কিছু প্রদর্শন বা প্ল্যাকার্ড বহন ও ব্যবহার এবং জনসমাবেশ এলাকায় ‘ড্রোন নিবন্ধন ও উড্ডয়ন নীতিমালা–২০২০’ এর ধারা ০৯ ও ১৩ মোতাবেক অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এই আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে গতকাল সকাল ১০টায় সিএমপি কমিশনারের সাথে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মহাসমাবেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ সাক্ষাৎ করেন। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পুলিশ কমিশনার সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
তারেক রহমানের সফরসূচি : বিএনপি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার জানান, আজ সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে বিমানে করে চট্টগ্রাম আসবেন এবং রাত্রিযাপন করবেন। আগামীকাল বেলা সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিবেন। সমাবেশ শেষে সড়কপথে যাত্রা করবেন তিনি। বিকেল ৪টায় ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে, সাড়ে ৫টায় কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠ, সন্ধ্যা ৭টায় কুমিল্লা সোয়াগাজী হাইস্কুল মাঠ, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠ, রাতে সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলার কাঁচপুর বালুরমাঠে নির্বাচনী সমাবেশে যোগদান করবেন। এরপর রাত ২টায় গুলশানস্থ বাসভবনে প্রত্যাবর্তন করবেন।
কী বলছেন বিএনপি নেতারা : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজাদীকে বলেন, পলোগ্রাউন্ড মাঠের জনসমাবেশটি কেবল রাজনৈতিক জনসমাগম হবে না। এটা হবে বাংলাদেশের সর্বসাধারণের অংশগ্রহণের একটা জনসমাগম। সবাই সেখানে উপস্থিত হতে চাইবে, তারা তারেক রহমানকে একটু দেখতে চাইবে এবং তার কথা শুনতে চাইবে। বিগত দিনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন পলোগ্রাউন্ডের মাঠে এসেছিলেন, ওই সভায় কিন্তু চট্টগ্রামবাসীর উপস্থিতি ছিল। সাধারণ মানুষ যারা রাজনীতি করে না তারা দেশনেত্রীকে শুধু এক পলক দেখার জন্য সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেই একই উৎসাহ তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে আজ আমরা চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রামের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল। বীর চট্টলা থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক জনসভা ২০১২ সালে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় এবার বীর চট্টলায় আসছেন আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান। চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ জিয়া পরিবারের সুযোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমানকে বরণ করতে, অভিনন্দন জানাতে উন্মুখ হয়ে বসে আছে। পলোগ্রাউন্ডের মহাসমাবেশ জনসমুদ্রে রূপান্তরিত হবে।
নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ আজাদীকে বলেন, ২০০৫ সালে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মীর মো. নাছিরের প্রচারণায় অংশ নিতে তারেক রহমান চট্টগ্রাম আসেন। এরপর গত ২০ বছর তিনি চট্টগ্রাম আসেননি। যেহেতু তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন, তাই আমাদের দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীর নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের নেতা তারেক রহমানকে চট্টগ্রামে অভ্যর্থনা জানানো।
নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান আজাদীকে বলেন, পলোগ্রাউন্ড মাঠে ১০ লক্ষ লোকের সমাগম হবে। দলের নেতাকর্মীর বাইরে সাধারণ মানুষও স্বতঃস্পূর্তভাবে সমাবেশে অংশ নেবেন। মানুষের ঢল নামবে পলোগ্রাউন্ডে।
এদিকে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, তারেক রহমানের আগমনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রচার–প্রচারণায় গতি পাবে। সমাবেশ থেকে তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে কাজ করার নির্দেশনা দিতে পারেন। বিএনপি’র আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে ধানের শীষের জন্য ভোট চাইবেন সাধারণ মানুষের কাছেও।












