পলোগ্রাউন্ডের জনসভা ইতিহাস সৃষ্টি করবে

মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আ. লীগের সংবাদ সম্মেলনে হুইপ স্বপন

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ৩ ডিসেম্বর, ২০২২ at ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ

অতীতে চট্টগ্রামের সব জনসভার রেকর্ড ছাপিয়ে আগামীকালের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পলোগ্রাউন্ডের জনসভা ইতিহাস সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। কারণ ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে লালদীঘির জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজ হাতে নিয়েছিলেন। সেই থেকে গত ১৪ বছরে প্রধানমন্ত্রী এসে একের পর এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন।

 

তাই চট্টগ্রামবাসী আগামীকালের পলোগ্রাউন্ডের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপান্তরিত করবেন গতকাল শুক্রবার সকালে নগরের জামালখানে চট্টগ্রাম সিনিয়র’স ক্লাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা সফল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তরদক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান আওয়ামী লীগ নেতারা।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, এখনই হিসাবটা না বলি। ওইদিন জনসভা শেষে এই হিসাব আপনারাসাংবাদিকরা করবেন। জনসভার পর আপনাদের মুখ থেকে শোনার অপেক্ষায় আছি।

তবে চট্টগ্রামে অতীতে অনেক জনসভার ইতিহাস রয়েছে। ৪ ডিসেম্বরের জনসভা অতীতের রেকর্ড ছাপিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশে সব ইপিজেডের আয়তন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার একর। আর মীরসরাইয়ে যে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরী গড়ে উঠেছে তার আয়তন হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার একর। এই শিল্প নগরীতে অনেক শিল্প কারখানা চালু হয়েছে। পুরোপুরি চালু হলে এখানে ১৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। দেশের সব মেধাবী সন্তান এখানে চাকরি করবেন। এছাড়াও নির্মিত হয়েছে কর্ণফুলীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল। যা দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র টানেল। চট্টগ্রামে আরও মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের চিন্তা সরকারের আছে।

সুতরাং আমি আশা করি, চট্টগ্রামবাসী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে একটি ঐতিহাসিক জনসভা জাতিকে উপহার দেবে। শুধু পলোগ্রাউন্ড নয়, আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা লোকে লোকারণ্য হবে।

জনসভায় আওয়ামী লীগ সরকারি সুযোগসুবিধা ব্যবহার করে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

তিনি বলেন, সরকারি সুযোগসুবিধা নিয়ে আওয়ামী লীগের কোনও জনসভা হয় না। জনসভায় প্রধানমন্ত্রী যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় আইন অনুযায়ী এসএসএফ নিয়োজিত থাকে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় অনেক বিষয় সংশ্লিষ্ট থাকে। কোনও এলাকায় প্রধানমন্ত্রী এলে তিনচার মাস আগে প্রস্তুতি শুরু হয়। সরকারে থাকার কারণে বরং সভার ক্ষেত্রে আমাদের কিছু অসুবিধায় পড়তে হয়। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার কারণে নানা বিধিনিষেধে অনেক প্রবীণ ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধারণ করে মাঠে ঢুকতে পারেন না।

জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি মহাসমাবেশ করতে চেয়েছে, তাই তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো মহা মাঠ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কেন গলির মধ্যে সমাবেশ করতে চাচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা বিএনপির মহাসমাবেশের পাল্টাপাল্টি কোনো সভা নয়।

পলোগ্রাউন্ডে বিএনপি সমাবেশ করেছে, সেটা ছিল বিভাগীয় মহাসমাবেশ। এর সঙ্গে আমাদের সমাবেশের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি একটি জেলার জনসভা। বিভাগীয় জনসভার সঙ্গে একটি জেলার জনসভার তুলনা কিংবা পাল্টা কর্মসূচি হয় না। বিএনপি মহাসমাবেশ করবে, তাদের জন্য মাঠ প্রস্তুত করে রেখেছি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সেখানে তাদের জনসমর্থন প্রকাশ করতে পারবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপি, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।