পর্যটন শিল্প

শনিবার , ৫ অক্টোবর, ২০১৯ at ৮:১০ পূর্বাহ্ণ
22

প্রতি বছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস পালন করা হয়। ১৯৮০ সাল থেকে প্রতি বছর এ দিবসটি বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে। আমাদের দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে এ দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়ে থাকেন। আন্তর্জাতিক পর্যটন দিবসের প্রধান উদ্দেশ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভ্রমণকারীদের সঙ্গে পর্যটন কেন্দ্রের সেতুবন্ধন গড়ে তোলা। পর্যটন মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বছরে গড়ে ৭০ হাজারেরও অধিক পর্যটক বাংলাদেশে আসেন। প্রতি বছর দেশে পর্যটন থেকে আয় হয় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে যারা পর্যটন শিল্পের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। সেসব দেশের প্রধান আয়ের উৎস হচ্ছে পর্যটন। সেসব দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে প্রতিনিয়ত ঢেলে সাজানো হচ্ছে। যাতে আরো বেশি সংখ্যক পর্যটকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। কেন না যত বেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হবে তত বেশি আয় হবে। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর পর্যটন ব্যবস্থার কাছাকাছিও আমাদের দেশের পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। যদিও বাংলাদেশে অসংখ্য পর্যটন এলাকা রয়েছে। যার সৌন্দর্য বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় অনেক বেশি। শুধু ঢেলে সাজানোর অভাব বা উন্নয়ন না হবার কারণেই বেশি সংখ্যক পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কঙবাজার, পতেঙ্গা, পারকির চর, রাঙামাটি, সিলেটের জাফলং, জৈন্তা পাহাড়, কুয়াকাটা, ইনানী বিচ, সেন্টমার্টিন দ্বীপ এলাকার মতো দেশের পর্যটন এলাকাগুলোতে উন্নত বিশ্বের আয়ের চেয়ে দুই গুণ/ তিন গুণ বেশি আয় বলে আমাদের বিশ্বাস। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বাংলাদেশে রয়েছে পর্যটন শিল্প বিকাশের অপার সম্ভাবনা। দেশের বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পর্যটন স্পটগুলো চিহ্নিতকরণ এবং পর্যটন স্পটগুলোর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করা হলে বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি দেশীয় পর্যটকদের সংখ্যা বাড়বে। এর ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং পর্যটন খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি অন্যতম বড় খাতে পরিণত হবে। তাই আমাদের জাতীয় আয় বৃদ্ধির জন্য পর্যটনকে সবিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা আশা করব আমাদের পর্যটন ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মহল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসবেন।

– এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম
পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x