আর মাত্র কদিন পরই বসতে যাচ্ছে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের আসর। এবারের আসর হচ্ছে টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে। আর সে এশিয়া কাপের প্রস্তুতি হিসেবে নেদারল্যান্ডস দলকে আনা হয়েছে বাংলাদেশে। যদিও দু’দলের এটি প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। আর সে সিরিজটি জয় দিয়ে শুরুর লক্ষ্য নিয়ে আজ শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি টি–স্পোর্টস সরাসরি সমপ্রচার করবে। যেকোনো ফরম্যাটের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে সফর করছে নেদারল্যান্ডস। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে আসন্ন এশিয়া কাপের প্রস্তুতির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নেদারল্যান্ডস সিরিজকে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ।
শক্তি এবং ক্রিকেট সংস্কৃতির দিক থেকে দুই দলের মধ্যে পার্থক্যের কারণে সিরিজে স্পষ্টভাবে ফেভারিট বাংলাদেশ। ২০১২ সাল থেকে টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে নেদারল্যান্ডসের কাছে কোনো ম্যাচেই হারেনি বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছে টাইগাররা। ২০১২ সালে নেদারল্যান্ডস সফরে দুই ম্যাচের সিরিজে একটি ম্যাচ হেরেছিল টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত দুই ম্যাচের সিরিজ ১–১ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সর্বশেষ ২০২৪ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি হওয়া ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল ২৫ রানে। কিন্তু ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের কাছে হারের লজ্জা পেয়েছিল বাংলাদেশ।
নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে রেকর্ড নিজেদের পক্ষে থাকার পরও এই সিরিজকে হালকাভাবে নিতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। ডাচদের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলার চেষ্টার কথার কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রথম ম্যাচের আগে লিটন বলেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। এখানে কোনো বড় বা ছোট দল নেই। এশিয়া কাপকে সামনে রেখে সিরিজে পরীক্ষা–নিরীক্ষার ইঙ্গিত দিয়েছেন লিটন। কিছু খেলোয়াড়কে পরীক্ষা করার সুযোগ পেলে আমরা আমরা সেটি করব। কিন্তু একই সাথে আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামব। কারণ জিতলে মনোবল বাড়ে, বলেন লিটন।
গত ১০ দিন ধরে সিলেটে অনুশীলন করছে বাংলাদেশ দল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেটে রান বন্যার কথা বিবেচনায় রেখে ঢাকা থেকে সিলেটে অনুশীলন ক্যাম্প স্থানান্তর করা হয়েছে। সিলেটের প্রস্তুতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেটের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন লিটন। এশিয়া কাপে আমরা ভিন্ন–ভিন্ন দলের বিপক্ষে খেলব। এশিয়া কাপে খেলবে এমন দলগুলোকে এখানে আমরা পাচ্ছি না। কিন্তু আমার মনে হয়, কন্ডিশন একই রকম হবে। কারণ আমরা সবাই জানি সংযুক্ত আরব আমিরাত ভালো ব্যাটিং উইকেট তৈরি করে। সিলেটও অনেকাংশেই ব্যাটিং–বান্ধব উইকেট হয়ে থাকে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজ জয় প্রত্যাশিত। কিন্তু ম্যাচ হারলেই সমালোচনার মুখে পড়তে হবে টাইগারদের।
যেকোনো ধরনের ফলাফলের জন্য প্রস্তুত লিটন। তিনি বলেন, আমি আগেই বলেছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো দলই ছোট নয়। বাংলাদেশ আগেও বিভিন্ন দলের কাছে হেরেছে। এটা নতুন কিছু নয়। আমরা কতটা ভালো খেলতে পারি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ শক্তিশালী দল বলে স্বীকার করেছেন নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস। তারপরও নেদারল্যান্ডসের সিরিজ জয়ের সামর্থ্য আছে বলে মনে করেন তিনি। এডওয়ার্ডস বলেন, অবশ্যই আমরা সিরিজ জিততে পারি। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলার আশা করি এবং আমরা যদি ভালো খেলি– অবশ্যই আমাদের সাফল্যের সুযোগ আছে।
বিশ্বকাপ এবং এশিয়া কাপের আগে বাংলাদেশের জন্য এটি দারুণ প্রস্তুতির সুযোগ। তাই এটি উত্তেজনাপূর্ণ একটি সিরিজ হবে। নিজেদের মাঠে বাংলাদেশ শক্তিশালী দল। অনেক দলকে বাংলাদেশ সফরে এসে ধুঁকতে হয়। আমরা জানি, এই সিরিজটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। আমাদের নিজেদের সেরাটা উজার করে দিতে হবে। সিরিজের শেষ দুই ম্যাচ যথাক্রমে ১ এবং ৩ সেপ্টেম্বর।