চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা কয়েকজন অসহায়, দরিদ্র ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের হাতে নগদ সহায়তা তুলে দিয়েছেন। গতকাল বুধবার সাপ্তাহিক গণশুনানিতে নিজেদের দুর্দশার কথা বললে জেলা প্রশাসক এ সহায়তা প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, ক্যান্সারে আক্রান্ত লাভলী দাশ গুপ্তা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে তার পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে জেনে জেলা প্রশাসক তাকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন।
৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সুমন গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য তাকে একাধিক পরীক্ষা করাতে হয়েছে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এসব পরীক্ষার খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি এখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। জেলা প্রশাসককে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তার আর নেই। তাকেও নিরাশ করলেন না ডিসি।
একইভাবে ৬৫ বছর বয়সী হাছিনা বেগম অসুস্থতায় ভুগলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। জীবনের এই শেষ সময়ে চিকিৎসা সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান। শুনে তাকে অর্থ সহায়তা তুলে দেন জেলা প্রশাসক।
জামিলা বেগম নামের এক নারী জেলা প্রশাসককে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় তিনি এখন সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহায়তা পেয়ে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারানোর কথা জানিয়েছেন মো. মনজুর আলম নামের আরেক ব্যক্তি। আগে উপার্জন করে পরিবার চালালেও বর্তমানে কাজ করতে না পারায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে তার পক্ষে। চিকিৎসা ব্যয় বহনের পাশাপাশি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগানোও এখন অসম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয় জেলা প্রশাসককে। তার পাশেও দাঁড়ালেন ডিসি।
মো. নুরুল ইসলাম আরেক অসহায় নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ধার–দেনা করে চিকিৎসা চালালেও এখন আর কোনো উপায় নেই। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি জেলা প্রশাসকের জরুরি সহায়তা কামনা করেছিলেন। তাকেও ফিরিয়ে দেননি ডিসি জাহিদুল ইসলাম। একই নামে আরেক প্রবীণ নাগরিক নিজেকে অসহায় উল্লেখ করে চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানান, শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে তিনি সম্পূর্ণ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তিনিও পান ডিসির অর্থ সহায়তা।
রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বাসিন্দা মো. সামাদ আলী জেলা প্রশাসককে বলেন, দারিদ্র্য ও অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি ডিসির সহযোগিতা কামনা করেন। তাকেও নগদ অর্থ সাহায্য করলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।














