মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে থাইল্যান্ডের কাছে হেরে লজ্জার চাদর জড়াতে হয়েছিল পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলকে। থাই মেয়েদের কাছে একরকম বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল পাকিস্তান। তবে ২৪ ঘন্টা না যেতেই সেই পাকিস্তান এবার হারিয়ে দিলো ভারতকে। শুরুতে দারুন ব্যাটিং করলেন ব্যাটাররা। এরপর বোলাররাও করলেন নিজেদের কাজ। আর তাতেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে দারুণ জয় পাকিস্তানের। গতকাল শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নারী এশিয়া কাপের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ১৩ রানে হেরেছে ভারত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রানের সংগ্রহ করে পাকিস্তান। জবাব দিতে নেমে দুই বল আগেই ১২৪ রানে অলআউট হয়ে গেছে ভারত। টস হেরে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। কিন্তু শুরুতে মাঠে উপস্থিত পাকিস্তানী সমর্থকদের হতাশই হতে হয়। ২৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গার পর ফিরে যান সিধরা আমিন। ১৪ বলে ১১ রান করে দীপ্তি শর্মার বলে স্টাম্পিং হন তিনি।
এরপর দ্রুত আরও দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। দলীয় ৩৩ রানের সময় ১৭ বলে ১৭ রান করে আউট হন মুনিবা আলি। এরপর ২ বলে শূন্য রান করে ফিরেন ওমাইমা সোহাইলও। ৩৩ রানে ৩ উইকেট হারানো দলের হাল ধরেন নিদা দার ও অধিনায়ক বিসমাহ মারুফ। দুজনের জুটিতে আসে ৮৮ রান। রেনুকা সিংয়ের বলে ক্যাচ দিয়ে বিসমাহ ফিরলে ভেঙে যায় এই জুটি। ৩৫ বলে ৩২ রান করেন তিনি। শেষ অবধি অপরাজিত থাকা নিদা দারের ব্যাট থেকে ৫ চার ও ১ ছক্কায় আসে ৩৭ বলে ৫৬ রান। ভারতের পক্ষে ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন দ্বীপ্তি শর্মা। এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপ বলা হয় ভারতকে। ভাবা হচ্ছিল ‘অজেয়’ও। তবে পাকিস্তান তাদের হারিয়ে দিলো। ১৩৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই ছন্দ খুঁজে পায়নি ভারত। দাঁড়াতে পারেনি কোনো জুটিও। তাদের ২৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে সাবহিনেনি মেঘলা ফিরলে। ১ চার ও ছক্কায় ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন এই ব্যাটার। কিন্তু ১৪ বলে ১৫ রান করে নাসরা সান্ধুর বলে সিদরা আমিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরত যান তিনি। এরপর ৮ বলে ২ রান করে আউট হন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটার জেমাইমা রদ্রিগেজ।
আরেক উদ্বোধনী ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানাও নিজের ইনিংসকে লম্বা করতে পারেননি। ১৯ বলে ১৭ রান করে এই ব্যাটারও শিকার হন নাসরার। হেমালাতা ২২ বলে ২০ রান করে তুবা হাসানের বলে বোল্ড হন তিনি। অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌর ১২ বলে ১২ রান করে ফিরলে হারটা তখন কেবল সময়ের ব্যাপার ছিল ভারতের জন্য।












