নভেম্বরে শেষ প্রকল্প, সাড়ে ১০ লাখ ভোটার এখনো পায়নি স্মার্ট কার্ড

কর্ণফুলী মীরসরাই চন্দনাইশ বাঁশখালী

শুকলাল দাশ | বৃহস্পতিবার , ১৮ জুন, ২০২৬ at ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ

চলতি বছরের নভেম্বরে উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা স্মার্ট কার্ড প্রকল্প শেষ হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ শুরুর পর চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১ ওয়ার্ড এবং জেলার ১১ উপজেলার ভোটাররা স্মার্ট কার্ড পেয়েছেন। এদিকে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চললেও চট্টগ্রাম জেলার চার উপজেলার প্রায় সাড়ে ১০ লাখ ভোটার এখনো উন্নতমানের স্মার্ট কার্ড পাননি।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটারদের মাঝে উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট কার্ড) বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার মধ্যে ধাপে ধাপে এ পর্যন্ত ১১ উপজেলার ৪৫ লাখ ৬৪ হাজার ৪৩৮ জন ভোটার তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট কার্ড) পেয়েছেন। নাগরিকদের মাঝে স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে ১০ বছর আগে। কিন্তু এর মধ্যে বাঁশখালী, মীরসরাই, চন্দনাইশ এবং কর্ণফুলী উপজেলার সাড়ে ১০ লাখ ভোটার এখনো স্মার্ট কার্ড পাননি। এদিকে চলতি বছরের নভেম্বরে উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ড প্রকল্প শেষ হচ্ছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, স্মার্ট কার্ড বা আইডিইএ প্রকল্প নভেম্বর পর্যন্ত আছে। এরপর কী হবে তা পরে ভাবা হবে।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪১ জন ভোটার, চন্দনাইশ উপজেলা ১ লাখ ৯৪ হাজার ৯০১ জন ভোটার, কর্ণফুলী উপজেলার ১ লাখ ২৯ হাজার ৬২৬ জন ভোটার এবং মীরসরাই উপজেলার ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৭৫১ জন ভোটার তাদের স্মার্ট কার্ড পাননি।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১ ওয়ার্ডের ১৯ লাখ ৯২ হাজার ৭৮৭ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ভোটার তাদের স্মার্ট কার্ড পেয়েছেন। যারা স্মার্ট কার্ড বিতরণের সময় ছিলেন না তাদের স্মার্ট কার্ডগুলো সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে রয়েছে। একইভাবে জেলার ১৫ উপজেলার মধ্যে আনোয়ারা, পটিয়া, বোয়ালখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি উপজেলার ভোটারদের মাঝে স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইডিইএ প্রকল্পটি ২০১১ সালে নেওয়া হয়েছিল বিশ্বব্যাংকের সহায়তায়। এরপর তারা চলে গেলে রাজস্ব খাত থেকে আইডিইএ২ প্রকল্পটি নেওয়া হয় ২০২০ সালে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এখনো ৯ কোটি নাগরিকের হাতে কার্ড পৌঁছে দিতে পারেনি ইসি। একইসঙ্গে প্রায় ২০ ধরনের সেবা স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার কথা বলা হলেও সরকারের অন্য কোনো দপ্তর আগ্রহ দেখায়নি। কমিশনও কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার ১৫ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ১৬ হাজার ৭১৩ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর মোট ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৯২ হাজার ৭৮৭ জন। আর জেলার ১৫ উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ৪৫ হাজার ৬৪ হাজার ৪৩৮ জন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআমিই বস জি সেভেন নেতাদের বললেন ট্রাম্প
পরবর্তী নিবন্ধডিসেম্বরের আগে জলাবদ্ধতাসহ নগরীর ৩টি প্রকল্প সম্পন্ন হবে