নগরের ৬ হাটে বেচাকেনা শুরু

আসছে গরু, প্রথম দিন ক্রেতার উপস্থিতি কম খুঁটি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের দাবি বেপারিদের

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ২ জুলাই, ২০২২ at ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ

কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ না থাকায় গত দুই বছরের ন্যায় এবার কোরবানি পশুর হাট বসা না বসা নিয়ে শঙ্কা ছিল না। ফলে কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নগরের পশুর হাটগুলোর উদ্দেশ্যে ট্রাকে ট্রাকে গরু নিয়ে আসতে থাকে বেপারিরা। এদিকে স্থায়ী-অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদারদের মধ্যেও ছিল সমান প্রস্তুতি। ফলে প্রথম দিন গতকাল শুক্রবার নগরে যাত্রা শুরু করেছে ছয়টি পশুর হাট। একটানা চলবে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত।

অবশ্য প্রথম দিন বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল কম। ফলে বিকিকিনিও তেমন হয়নি। টুকটাক যা হয়েছে তার বেশিরভাগই স্বজনদের উপহার দেয়ার জন্য কিনেছেন ক্রেতারা। ইজারাদারদের আশা ধীরে ধীরে ক্রেতা-বিক্রেতার সরব উপস্থিতিতে জমে উঠবে বাজার। বাড়বে বিকিকিনিও। যদিও নগরের কোরবানিদাতাদের বেশিরভাগই রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যার কারণে শেষ দিকেই কিনেন কোরবানি পশু। ওই হিসেবে বাজার জমে উঠতে কয়েকদিন সময় লাগবে। এদিকে গত রাতে ট্রাকে ট্রাকে নিয়ে আসা গরু নামাতে দেখা গেছে পশুর হাটগুলোতে। বেপারি এবং ইজারাদারদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, এখনো পথে গরুবাহী শত শত ট্রাক রয়েছে। ফলে এবার গরুর সংকট হবে না। এতে দামও কিছুটা সহনীয় থাকবে। তবে বাজারে বাজারে খুঁটি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে গেলে দামও সহনীয় রাখা কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন বেপারিরা। কয়েকজন বেপারি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক আজাদীকে বলেন, নিয়ম হচ্ছে ইজারাদারগণ হাছিলের অর্থই কেবল আদায় করতে পারবেন। কিন্তু তারা খুঁটির মূল্যও নেন। তাই বাড়তি খরচ মেটাতে আমরাও পশুর দাম বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হয়। আরেক বেপারি বলেন, প্রতিবছর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ইজারাদারদের পক্ষ থেকে স্থাপিত খুঁটির (ব্যবসায়ীদের ভাষায় খাইন। আকারভেদে এসব খাইনে ৯ থেকে ১৫টি গরু রাখা যায়) মাত্রাতিরিক্ত দাম আদায় করা হয়। ফলে মূল দামের সাথে অতিরিক্ত খরচের লাগাম টেনে ধরতে বাড়ানো হয় গরুর মূল্য। আর এর মাশুল গুনতে হয় ক্রেতাদের।

ইজারাদাররা দাবি করেছেন, তারা খুঁটির জন্য আলাদা কোনো টাকা নেন না। অথচ গত বৃহস্পতিবার রাতেই বিবিরহাট বাজারে খুঁটি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাঁচলাইশ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন রবিন ও যুবলীগ নেতা ফিরোজ খানের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটকও করে।
এদিকে গতকাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, কুমিল্লা, নাটোরসহ অন্যান্য এলাকা থেকে গরু এনেছেন বেপারিরা। আছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও বাঁশখালী থেকে নিয়ে আসা গরুও। স্থানীয় বিভিন্ন খামারে হৃষ্টপুষ্টকৃত প্রচুর গরুও আনা হয়েছে বিক্রির জন্য। বিবিরহাট বাজারে একটি গরুর দাম হাঁকা হয় সাড়ে তিন লাখ টাকা। ক্রেতাদের কয়েকজন দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত দরদাম করেন। তবে বিক্রেতা তিন লাখ টাকার নিচে এ গরু বিক্রি করবে না বলে জানান। কর্ণফুলী বাজারে একটি গরুর দাম তিন লাখ টাকা বলেছেন বিক্রেতা। একইদিন সাগরিকা পশুর বাজারে ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা দামে দুটি গরু বিক্রি হয়েছে।

গতকাল সাগারিক পশুর বাজারের ক্রেতা শামসুদ্দিন বলেন, মেয়ের বিয়ে হয়েছে মাস চারেক আগে। মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে দেয়ার জন্য একটি গরু কিনলাম। নিজেদের জন্য আরো পরে নিব।

বিবিরহাট গরুর বাজারের ইজারাদারের প্রতিনিধি রিটন আজাদীকে বলেন, বাজারে এখন পর্যন্ত পাঁচশ এর মতো গরু ঢোকেছে। রাতের (গত রাত) মধ্যে আরো ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক গরু আসবে। ইতোমধ্যে কুমিল্লা ও কুষ্টিয়া থেকে গরু এসেছে। যশোর থেকে আসবে। প্রচুর গরু আসবে।

গতকাল বিক্রি কেমন হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, আজ পাঁচটি বিক্রি হয়েছে। আসলে প্রথম দিকে তেমন বিক্রি হয় না। যারা কিনেছেন তারা মূলত আত্মীয়-স্বজনকে দেয়ার জন্য কিনেছেন। আশা করছি মঙ্গলবার থেকে বাজার জমজমাট হয়ে উঠবে।

খুঁটি বাণিজ্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বলেন, আমাদের বাজারে খুঁটি নিয়ে কোনো সমস্যা হয় না। গরু ওঠা-নামানোর ঝামেলাও নাই। এ জন্য স্থানীয় কাউন্সিলর আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন। জাল নোট শনাক্ত করার জন্য একটি ব্যাংক বুথ বসানো হবে বলেও জানান রিটন।

সাগরিকা পশুর বাজারের ইজাদারের প্রতিনিধি মো. আরিফুল ইসলাম আজাদীকে বলেন, প্রচুর গরু এসেছে। আমাদের বাজারে এক লাখ গরু-ছাগল রাখার মতো জায়গা আছে। ইতোমধ্যে ২০ থেকে ২২ হাজার চলে এসেছে। দুয়েকদিনের মধ্যে আরো প্রচুর গরু আসবে। গতকাল ২০ থেকে ২৫টি গরু বিক্রি হয়েছে জানিয়ে বলেন, এখন পর্যন্ত পাঁচ-ছয় লাখ টাকা দামের গরু এসেছে। এর চেয়ে বেশি দামের গরু আসার কথা রয়েছে। এ বাজারে খুঁটি বাণিজ্য হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

কর্ণফুলী গরু বাজারের ইজারাদার মো. ইব্রাহিম দৈনিক আজাদীকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ১০/১৫ ট্রাক গাড়ি এসেছে। আজ (গতকাল) আরো আসবে। গরুর সংকট হবে না। প্রথমদিন টুকটাক বিকিকিনি হয়েছে। সামনে বাড়বে বলে আশা করছি। এ বাজারে তিন-চার লাখ টাকার দামের গরু এসেছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, নগরে বসা ছয় পশুর হাটের তিনটি অস্থায়ী। এগুলো হচ্ছে কর্ণফুলী গরু বাজার (নুর নগর হাউজিং এস্টেট), সল্টগোলা রেলক্রসিং সংলগ্ন বাজার এবং ৪১ নং ওয়ার্ডস্থ বাটারফ্লাই পার্কের পাশে। এছাড়া আছে তিনটি স্থায়ী পশুর হাট। হাটগুলো হচ্ছে সাগরিকা পশুর বাজার, বিবিরহাট গরুর হাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার।