নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করতে পরিকল্পিতভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্ন বিভাগের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এর অংশ হিসেবে ল্যান্ডফিল্ড কমপেক্টর ডাম্প ট্রাক, রোড ক্লিনিং গাড়ি এবং নালা পরিষ্কারের জন্য বিশেষায়িত গাড়িসহ উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ সংযোজন করা হবে বলেও জানান মেয়র।
তিনি গতকাল রোববার চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান ও প্রধান প্রকৌশলী আনিসুল ইসলাম। ডা. শাহাদাত বলেন, ল্যান্ডফিল্ড কমপেক্টর ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে বর্জ্য পরিবহন আরও কার্যকর করা, রোড ক্লিনিং গাড়ির সাহায্যে সড়ক পরিষ্কারের কার্যক্রম জোরদার করা এবং বিশেষায়িত গাড়ির মাধ্যমে নালা পরিষ্কারের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরের সড়ক, নালা ও জনপরিসর পরিষ্কার রাখার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। নগরের জনসংখ্যা ও বর্জ্যের পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে। এ জন্য প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। উন্নত মানের যন্ত্রাংশ সংযোজন এবং আধুনিক বর্জ্য পরিবহন সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করা হবে। মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমকে সহজ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক করতে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ইতোমধ্যে ‘আমার চট্টগ্রাম’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের যোগাযোগ বাড়ানো এবং নাগরিক সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যত্রতত্র ময়লা–আবর্জনা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা–কর্মচারীদেরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের সঙ্গে নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ যুক্ত হলে চট্টগ্রামকে আরও পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে।
পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে আরও আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের পরিচয় দিতে হবে। বর্জ্য অপসারণে অযথা বিলম্ব পরিহার, নিয়মিত তদারকি এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। নগরীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির উন্নয়নে শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই হবে না, পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং তার সুফল নগরবাসীর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।












