বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীতে গত ১৪ দিনে তিনটি ডলফিন ও তিনটি ব্রুড কাতলা মাছ মরে ভেসে ওঠার ঘটনায় হালদা বিশেষজ্ঞরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ব্রুড কাতলা মাছের একটি মরে ভেসে ওঠে গত সোমবার কাগতিয়া স্লইচ গেট এলাকায়। এটির ওজন ৯ কেজি ১শ গ্রাম। গতকাল মঙ্গলবার হাটহাজারীর গড়দুয়ারা নয়াহাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা মরা মাছটির ওজন ১২ কেজি ৩শ গ্রাম। গতকাল বিকালে সর্তার ঘাটে ভেসে উঠে আরেকটি মাছ। এটির ওজন ১০ কেজি ৭৭২ গ্রাম।
এর আগে ডলফিন মরে ভেসে উঠেছিল ১৪ জুলাই দক্ষিণ গহিরার বুড়ি সর্তা খাল, ২০ জুলাই আজিমারঘাট ও তৃতীয়টি ২১ জুলাই আজিমারঘাট এলাকায়। গবেষকরা বলছেন, দূষণ, কেমিক্যাল প্রযোগ আর জাল পাতার কারণে ডলফিন ও মাছের মৃত্যু হয়েছে। হালদা নদীর ওপর পিএইচডি করা চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ১৪ দিনে তিনটি ডলফিন ও তিনটি ব্রুড মাছ মারা যাওয়া হালদার জন্য অশনিসংকেত। তার মতে, দেশের স্বাদু পানির মেজর কার্প জাতীয় মাছের অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র। এই নদীতে জলজ বাস্তুতন্ত্রে রয়েছে ৮৩ প্রজাতির মাছ (ফিনফিশ) ও ১০ প্রজাতির চিংড়ি (শেলফিশ), গাঙ্গেয় ডলফিন ও অন্যান্য জলজ প্রাণী। হালদা বাস্তুতন্ত্র মাছ, গাঙ্গেয় ডলফিন ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল। কিন্তু বর্তমানে হালদার বাস্তুতন্ত্রের পরিবেশ ও প্রতিবেশ জলজ প্রাণীর জন্য ক্রমশ হুমকি হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, ডলফিন জলজ বাস্তুতন্ত্র পরিবেশের নির্দেশক ও প্রতিবেশের প্রহরী। ডলফিনের অবস্থা ও সংখ্যা থেকে সহজে জলজ বাস্তুতন্ত্রের দূষণ পরিমাপ করা যায়। আবার একটি বাস্তুতন্ত্রে ডলফিনের সংখ্যা বেশি হলে ওই বাস্তুতন্ত্রের মাছের পরিমাণও বেশি হয়। বর্তমানে নদীতে যা ঘটছে তা নদীর বাস্তুতন্ত্রের দূষণকে নির্দেশ করে। এখন নদীর বাস্তুতন্ত্রের অবস্থা অর্থাৎ দূষণের মাত্রা জানতে হালদার পানি গুণাবলী পরীক্ষা করে দূষণের মাত্রা ও উৎস নির্ণয় করা জরুরি। নদীর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হালদার ওপর একাডেমিক অভিজ্ঞ গবেষকদের সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞ দল গঠন ও নিয়মিত মনিটরিং করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, নদীতে যান্ত্রিক নৌযান বন্ধ রয়েছে। এখন মাছ চোর চক্র সকলের নজর এড়িয়ে তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা সুযোগ বুঝে জাল পাতার পাশাপাশি মাছ মারার জন্য হালদা ও শাখা খালে কেমিক্যাল প্রয়োগ করছে। এটিই এখন সবার জন্য উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার।
তিনি বলেন, গত দুদিনে ভেসে ওঠা তিনটি ব্রুড কাতলা মাছ দেখে ধারণা করা হচ্ছে রাসায়নিক বিষক্রিয়ায় মারা গেছে মাছগুলো। হালদাকে বাঁচাতে হলে হালদাপাড়ের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। এই নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এখন নদীর ওপর নজরদারি বাড়িয়ে কারা জাল পাতে, কারা বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরছে তাদের সনাক্ত করে গোপনে প্রশাসনকে জানাতে হবে।
পশ্চিম গুজরার চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন আরিফের প্রশংসা করে তিনি বলেন, রাত ১২টায় তিনি নদীতে নেমে জাল ও নৌকা আটক করেছেন। নদীপাড়ের সকল জনপ্রতিনিধি এভাবে তৎপর হলে হালদা বাঁচবে।












