দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎপরতা

শুক্রবার , ৯ আগস্ট, ২০১৯ at ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ
50

দুদকের তৎপরতা চলছে। চুনোপুটি থেকে শুরু করে রুই কাতলা পর্যন্ত দুদকের জালে আটকা পড়ছে। এই তৎপরতা যেন অব্যাহত থাকে জনগণ তাই কামনা করে। গত কয়েক বৎসরে দেশে যে দুর্নীতির মচ্ছব সংঘটিত হয়েছে এবং একই কারণে টিআইবি কর্তৃক বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিপরায়ণ দেশ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। সেই দুর্নাম ঘুচানোর জন্য এবং জনসাধারণের দেওয়া শুল্ক কর রাজস্ব ও বৈদেশিক ঋণ যাতে দুর্নীতিবাজদের পকেটে যেতে না পারে সেই লক্ষ্যে দুদককে শক্তিশালী এবং সক্রিয় করার সর্বোচ্চ প্রয়োজীয়তা দেখা দিয়েছে। দুর্নীতি মূলোৎপাটন হোক, যা কিছু দুর্নীতিবাজ ছাড়া দেশের প্রত্যেক নাগরিক মনে প্রাণে চাইছেন। এদেশে গত কয়েক বছরে বিদ্যুৎ, শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য অত্যাবশ্যক খাতসহ প্রত্যেকটি সরকারি কর্মকাণ্ডে জনগণের করের টাকা বৈদেশিক ঋণের বিরাট অংশ দুর্নীতিবাজদের পকেটে চলে গেছে। ফলে নিম্নমানের কাজ সম্পন্ন হয়েছে অথবা কাজ একেবারেই হয়নি। দুর্নীতিবাজরা এ কালো টাকা দিয়ে বাড়ি-গাড়ি কিনেছে। বিলাসী জীবন যাপন করছে এবং আরো অধিক পরিমাণে দুর্নীতি করার স্বপ্ন দেখছে। বড় দুর্নীতিবাজরা ছাড়া পেলে দেশের মানুষের মধ্যে দুদক সম্পর্কে বিরূপ ধারনা সৃষ্টি হবে। দুর্নীতি দমনের নামে গত কয়েক বছরে সরকার দলীয় ৭০০ জনসহ প্রভাবশালী ১৫ হাজার ও অন্তত তিন হাজার সরকারি কর্মকর্তাকে দুদক থেকে অব্যাহতিপত্র দেওয়া হয়েছে। তারা অবৈধ উপায়ে বিশাল সম্পদের মালিক হওয়া সত্বেও কিভাব্‌ে দুদক থেকে অব্যাহতি পেলেন? হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক, পেট্রোবাংলাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো আলোচিত ঘটনাগুলো দুদকের সততা ও সামর্থ্য যে দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন যে হারে দেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে দুদকের নীরবতা ছিল সত্যি দুঃখজনক। ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি অভিযোগে অভিযুক্ত করা এবং দেশের প্রচলিত আইনে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করার মধ্যে দুদকের সার্থকতা। সে জন্য সৎ ও নিষ্ঠাবান তদন্ত কর্মকর্তারা তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসন্ধান ও তদন্ত করবেন এটাই কাম্য। তাই দেশ ও জাতির স্বার্থে দুদকের সৎ ও নিষ্ঠার সাথে দুনীর্তিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ,চট্টগ্রাম।

x