দুর্গোৎসবে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্যের কারণে : অর্থমন্ত্রী

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ২১ অক্টোবর, ২০২৬ at ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তা বাস্তবায়নে গত আট মাসে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন বলে দাবি করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের মানুষের যে অংশগ্রহণ তা জাতীয় ঐক্যের কারণে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নগরে জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত সমাবেশে শুভেচ্ছা বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজকে এই শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে আমরা কিছু ভিন্নতা লক্ষ্য করছি। আমি তো অনেক পূজায় এসেছি, অনেক উৎসবে এসেছি। আজকের অনুষ্ঠানে এবং অনুষ্ঠানের আগে, আমি বোধ হয় দুই সপ্তাহ আগে এখানে এসেছি একটা অনুষ্ঠানে। পূজা কমিটির সবাইকে নিয়ে আমরা একটা অনুষ্ঠান করেছিলাম। আমি দেখেছি তখন থেকে যে উৎসব শুরু হয়েছে, পূজার এত আগে আমি এরকম উৎসবমুখর অবস্থা দেখিনি, দুই সপ্তাহ আগে এখানে আসার পর থেকে।

তিনি বলেন, ভিন্নতা হচ্ছে–এটা শুধু সনাতন ধর্মীয় পূজারী ভাইবোনেরা নয়, এখানে এবার অংশগ্রহণের বিষয়টি কিন্তু একটু ভিন্ন। এখানে চট্টগ্রাম মহানগরী, সারা বাংলাদেশ–অনেকের অংশগ্রহণ আমি লক্ষ্য করেছি। এখানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, এখানে সমাজকর্মীরা, এখানে পেশাজীবীরা, স্থানীয়রা–সবাই কিন্তু এবার এই উৎসবের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়েছে। এটা খুবই লক্ষণীয় বিষয়। এই যে সকলের অংশগ্রহণ, সকলের এই উৎসবকে সমর্থন–এটা যে আমরা জাতীয়ভাবে একটি কনভার্জেন্স, একটা মিলনমেলা আমরা লক্ষ্য করছি এবং এই মিলনে সবাই যার যার মতো করে অংশগ্রহণ করছে। এই যে জাতীয় একটি মিলনমেলা, এটি একটি ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস–এটার পেছনে কারণটা হলো সমাজে, রাজনীতিতে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

আমির খসরু বলেন, গত নির্বাচনের পরে আমাদের সমাজে, আমাদের রাষ্ট্রে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষণীয়। সেটা হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয়, সেটা হচ্ছে সমস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সেই কাজটা করা। কোনো জাতি, কোনো রাষ্ট্র যদি পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে নিয়ে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক কর্মকাণ্ড, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সেটা একটা আধুনিক রাষ্ট্র হতে পারে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি যে আধুনিক রাষ্ট্র তো দূরের কথা, সেখানে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে, মানুষের ব্যবসা–বাণিজ্য বিপন্ন হয়েছে, জীবনের সুরক্ষা ছিল না, ভিন্ন মতের কোনো সুযোগ ছিল না–সেখানে জাতীয় ঐক্য আসতে পারে না। আজকের প্রেক্ষাপটে, আমি এজন্যই বললাম–এই পূজার একটা ভিন্নতা আমি দেখতে পাচ্ছি, এখানে আমরা সবাই কিন্তু একসাথে ঐক্যবদ্ধ হতে পেরেছি। এই প্রথমবারের মতো সর্বস্তরের মানুষ আমরা কিন্তু ঐক্যবদ্ধ হতে পেরেছি।

খসরু বলেন, এটা শুধু পূজার বেলায় নয়, আপনারা লক্ষ্য করবেন ফ্যামিলি কার্ড–এই ফ্যামিলি কার্ড কিন্তু এই বছর ৪১ লক্ষ গৃহকর্ত্রীকে দেওয়া হবে। এটা কারা পাবে? এখানে ধর্ম–বর্ণের কোনো বিষয় নেই। একদম যারা হতদরিদ্র তাদের থেকে শুরু করে আমরা ওপরের দিকে যাচ্ছি। এখানে কে কোন ধর্মের, কোন বর্ণের, তার ঐতিহাসিক ভূমিকা ইত্যাদি–এগুলো কিছুই নাই। যাদের প্রাপ্য তারা পাবে, সে যেকোনো ধর্মেরই হোক। সেটা আপনারা নিশ্চয়ই দেখতে পাবেন আগামীতে, যখন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ হবে, সব ধর্মের মানুষ সমানভাবে অংশীদার হবে।

খসরু বলেন, ইমাম–মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, পথশ্রমিক–যাদেরকে সরকার অনুদান দিচ্ছে, সেটা কোনো বিশেষ ধর্মের জন্য না। সেটা প্রত্যেকটি ধর্মের জন্য আলাদা আলাদা বরাদ্দ এবং অঙ্কটি অনেক বড়। জেলেরা যখন মাছ ধরতে পারে না, তখন তাদের জন্য চালের যে অ্যানাউন্সমেন্ট বা অ্যালোকেশন হয়, সেই অ্যালোকেশন এবার বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের জেলেরা এবার তাদের যে অনুদান পেয়েছে, আমি দেখেছি তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারের সামনে পদ্মফুলের গোলচত্বর
পরবর্তী নিবন্ধস্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল বা সরকারের হস্তক্ষেপ থাকবে না